
ব্রাজিলে সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর সাজা কমানোর সুযোগ তৈরি করা একটি বিতর্কিত আইনের কার্যকারিতা স্থগিত করেছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। স্থানীয় সময় শনিবার এক গুরুত্বপূর্ণ আদেশে এই সিদ্ধান্ত দেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি আলেক্সান্দ্রে দে মোরায়েস।
আদেশে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট আইনের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে দায়ের হওয়া আপিলের চূড়ান্ত শুনানি শেষ না হওয়া পর্যন্ত আইনটি কার্যকর করা যাবে না। অর্থাৎ আপাতত আইনটি স্থগিত থাকবে এবং কোনো দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি এর সুবিধা নিতে পারবেন না।
এই ঘটনা ব্রাজিলের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে। কারণ সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারো বর্তমানে ২৭ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত অবস্থায় রয়েছেন। ২০২২ সালের নির্বাচনে পরাজয়ের পর ক্ষমতায় টিকে থাকার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে তাকে গত বছরের সেপ্টেম্বরে এই সাজা দেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট।
আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই নির্বাচনে বলসোনারো বামপন্থী নেতা লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার কাছে পরাজিত হন। এরপর তিনি ও তার ঘনিষ্ঠরা ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা করেছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে, যা পরে আদালতে প্রমাণিত হয়।
তবে গত ডিসেম্বরে ব্রাজিলের কংগ্রেসে একটি আইন পাস করা হয়, যা ওই মামলায় দণ্ডপ্রাপ্তদের সাজা কমানোর সুযোগ তৈরি করে। এই আইনটি মূলত রক্ষণশীল সংখ্যাগরিষ্ঠ কংগ্রেসে পাস হয়। পরবর্তীতে সাবেক প্রেসিডেন্ট লুলা জানুয়ারিতে আইনটিতে ভেটো দিলেও এপ্রিলের শেষ দিকে বলসোনারোর রাজনৈতিক মিত্ররা সেই ভেটো বাতিল করে দেয়।
এরপরই আইনটির সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠে এবং বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ করা হয়। আবেদনকারীদের দাবি, এই আইন সংবিধানের মৌলিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং এটি বিচার ব্যবস্থার স্বাধীনতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক আদেশ অনুযায়ী, এখন থেকে দণ্ডপ্রাপ্তরা এই আইনের আওতায় সাজা কমানোর জন্য আলাদা কোনো আবেদনও করতে পারবেন না, যতক্ষণ না আদালত চূড়ান্ত রায় দেয়।
এদিকে ৭১ বছর বয়সী জাইর বলসোনারোর আইনজীবীরা শুক্রবার নতুন করে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জমা দিয়েছেন। তারা দাবি করেছেন, পুরো মামলাটি “ন্যায়বিচারের ব্যর্থতা” এবং এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
বলসোনারোর এই মামলা ঘিরে ব্রাজিলে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক বিভাজন চলছে। তার সমর্থকদের দাবি, তাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার করা হয়েছে এবং বিচার ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে তাকে দমন করা হচ্ছে। অন্যদিকে বিরোধীদের বক্তব্য, গণতন্ত্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের দায়ে সাবেক প্রেসিডেন্ট হলেও তাকে আইনের আওতায় আনা একান্ত জরুরি ছিল।
বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের এই স্থগিতাদেশ বলসোনারোর আইনি লড়াইকে আরও জটিল করে তুলেছে। এখন চূড়ান্ত শুনানির দিকে তাকিয়ে রয়েছে দেশটির রাজনৈতিক মহল, যেখানে এই রায় ব্রাজিলের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক গতিপথেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।