
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চলমান বিশেষ অভিযানে বড় ধরনের সাফল্য অর্জন করেছে Bangladesh Police। গত ১ মে থেকে শুরু হওয়া এই দেশব্যাপী অভিযানে এখন পর্যন্ত মোট ১৮ হাজার ৩২৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।
বুধবার (১০ জুন) পুলিশ সদর দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই অভিযান মূলত অপরাধ দমন, মাদক নেটওয়ার্ক ভাঙা এবং দেশের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্য নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অভিযানে সবচেয়ে বড় অংশজুড়ে রয়েছে মাদক ও চোরাচালান সংশ্লিষ্ট অপরাধীরা। এ পর্যন্ত ১৩ হাজার ২০ জন মাদক ব্যবসায়ী ও চোরাকারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে থাকা মাদক নেটওয়ার্ক চিহ্নিত করে ধারাবাহিকভাবে অভিযান চালানো হচ্ছে।
এছাড়া সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করে এমন ছিনতাই, ডাকাতি ও দস্যুতার সঙ্গে জড়িত ২ হাজার ২১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি, শহর ও গ্রামীণ এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কমাতে এই অংশে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।
অভিযানের অংশ হিসেবে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টিকারী এবং তাদের সহযোগী হিসেবে মোট ১ হাজার ৯৫৮ জনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, সামাজিক অস্থিরতা ও পরিকল্পিত বিশৃঙ্খলা রোধে এসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
একইসঙ্গে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ৮০৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ব্যবসায়ী ও সাধারণ নাগরিকদের কাছ থেকে জোরপূর্বক অর্থ আদায় এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে এসব অভিযান চালানো হয়।
অন্যদিকে অবৈধ অস্ত্র বহনের দায়ে ৩৩১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, অবৈধ অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে রাখাই নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখার অন্যতম প্রধান শর্ত।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্যমতে, সামগ্রিক অভিযানে দেখা যাচ্ছে মাদক ও চোরাকারবারি সংক্রান্ত অপরাধই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। মোট গ্রেপ্তারের মধ্যে এই খাতেই ১৩ হাজারের বেশি আসামি রয়েছে, যা পুরো অভিযানের একটি বড় অংশ।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত করতে এই বিশেষ অভিযান চলমান থাকবে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি কঠোরভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এই অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপরাধ দমন কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে বিভিন্ন ইউনিট সমন্বিতভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।