
‘আমার পুলিশ, আমার দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে শুরু হয়েছে পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬। রবিবার (১০ মে) সকালে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অনুষ্ঠানে তিনি দেশের জনগণের জানমাল রক্ষায় সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করার জন্য পুলিশ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান।
উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পুলিশের বর্ণিল প্যারেড কেবল আনুষ্ঠানিক আয়োজন নয়, বরং এটি ছিল শৃঙ্খলা, আত্মমর্যাদা, দায়িত্ববোধ এবং একটি সুন্দর ভবিষ্যতের দিকে দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতীক। তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের রক্তক্ষয়ী গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার সুযোগ পেয়েছে।
তিনি বলেন, বছরের পর বছর হামলা-মামলা, নিপীড়ন ও বঞ্চনার শিকার সাধারণ মানুষ এখন শান্তি ও নিরাপত্তা চায়। আর সেই প্রত্যাশা পূরণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে পুলিশ বাহিনীকে। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাধ্য এবং সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রমাণ করেছে যে বাংলাদেশ পুলিশ দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম। তিনি পুলিশ সদস্যদের আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও অবদানের কথা তুলে ধরেন। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যরা সাহসিকতা, মানবিকতা এবং পেশাদারিত্বের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিশেষ করে নারী পুলিশ সদস্যদের ভূমিকাও আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছে বলে উল্লেখ করেন সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, শুধু বিদেশে নয়, দেশের মানুষের সঙ্গেও পুলিশের মানবিক আচরণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের আস্থা অর্জন করতে হলে পুলিশকে আরও জনবান্ধব হতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণই পুলিশের ভাবমূর্তি আরও ইতিবাচক করবে বলে তিনি মনে করেন।
চার দিনব্যাপী পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬ আগামী বুধবার (১৩ মে) পর্যন্ত চলবে। এ উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ পুলিশ। অনুষ্ঠানে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধি এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।