
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের পর এবার বিধানসভায় বিরোধীদলীয় নেতৃত্বও চূড়ান্ত করল তৃণমূল কংগ্রেস। দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকার পর এবারের নির্বাচনে সরকার গঠন করতে না পারলেও প্রধান বিরোধী দলের মর্যাদা ধরে রেখেছে দলটি। শনিবার রাতে আনুষ্ঠানিকভাবে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম ঘোষণা করে তৃণমূল।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিধানসভায় চিফ হুইপ হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ফিরহাদ হাকিম। এছাড়া অসীমা পাত্র ও নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়কে ডেপুটি লিডার হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে। নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিধানসভায় সরকারের বিরুদ্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে এই নেতৃত্ব কাঠামো সাজিয়েছে তৃণমূল।
এদিকে শনিবার কলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন শুভেন্দু অধিকারী। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে আরও কয়েকজন মন্ত্রী শপথ নেন। তাদের মধ্যে ছিলেন দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পল ও নিশীথ প্রামাণিক।
২০২১ সাল থেকে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধীদলীয় নেতা ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। এবারের নির্বাচনে বিজেপির বড় জয়ের মাধ্যমে তিনি রাজ্যের শাসনভার গ্রহণ করেন। ফলে বিরোধী শিবিরে নতুন নেতৃত্ব নির্ধারণ করা তৃণমূলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
গত ৪ মে ঘোষিত নির্বাচনী ফলাফলে পশ্চিমবঙ্গের ২৯৩ আসনের মধ্যে বিজেপি ২০৭টি আসনে জয় পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস ৮০টি আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দলের মর্যাদা লাভ করে। নির্বাচনের ফলাফল রাজ্যের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন মোড় তৈরি করেছে বলে বিশ্লেষকদের মত।
সবচেয়ে আলোচিত ফল এসেছে ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে। সেখানে তৃণমূল নেত্রী ও সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১৫ হাজারের বেশি ভোটে পরাজিত করেন শুভেন্দু অধিকারী। এই জয় শুধু বিজেপির জন্য প্রতীকী সাফল্যই নয়, বরং পশ্চিমবঙ্গের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সমীকরণেও বড় পরিবর্তনের বার্তা দিয়েছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তৃণমূল এখন বিরোধী দলে থেকেও রাজ্যের রাজনীতিতে নিজেদের শক্ত অবস্থান ধরে রাখতে চাইছে। সেই লক্ষ্যেই অভিজ্ঞ নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে সামনে আনা হয়েছে। আগামী দিনে বিধানসভায় সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও নীতির সমালোচনা এবং জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে সরব ভূমিকা রাখতে পারে তৃণমূল।
অন্যদিকে বিজেপি সরকার গঠনের পর রাজ্যে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে। শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে নতুন সরকার কতটা সফল হয় এবং বিরোধী দল হিসেবে তৃণমূল কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, এখন সেদিকেই নজর রাজ্যবাসীর।