
পারস্য উপসাগরের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির কাছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরান। দেশটির ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ইউনিট উত্তর পারস্য উপসাগরের আকাশপথে প্রবেশ করা ড্রোনটিকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে ধ্বংস করে।
ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ড্রোনটি নজরদারি ও নির্ভুল হামলার কাজে ব্যবহৃত একটি অত্যাধুনিক সামরিক প্রযুক্তি, যার বাজারমূল্য প্রায় ৩০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি। আইআরজিসির দাবি, ড্রোনটি বুশেহের প্রদেশের জামে এলাকায় ভূপাতিত করা হয়।
ইরান আরও দাবি করেছে, চলমান সংঘাতে তারা তাদের নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুর প্রায় ৭০ শতাংশ সফলভাবে আঘাত হেনেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও সামরিক স্থাপনাগুলোতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এর আগে হরমুজ প্রণালির কাছে মার্কিন একটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। পরবর্তীতে উভয় পক্ষ একে অপরের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগ তোলে।
ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডানে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে তারা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র এসব হামলাকে ‘আত্মরক্ষামূলক’ বলে উল্লেখ করে তাদের প্রতিক্রিয়ামূলক অভিযান পরিচালনার কথা জানায়।
এদিকে আঞ্চলিক বিভিন্ন সূত্রে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি এলাকায় বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে, যদিও স্বাধীনভাবে এসব তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে এই সংঘাত বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও নিরাপত্তার ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন রুট হিসেবে এই জলপথ ব্যবহৃত হয়।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়েই পাল্টা হামলা ও প্রতিরোধমূলক অবস্থান বজায় রাখায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।