
মুন্সীগঞ্জ জেলার মিরকাদিম এলাকায় অবস্থিত একটি প্রাচীন ও ঐতিহাসিক পুকুরকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি একটি পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। ডেপুটি বাড়ি জামে মসজিদ সংলগ্ন এই পুকুরটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা, বর্জ্য জমা এবং পরিবেশগত অবক্ষয়ের শিকার হয়ে আসছিল। স্থানীয় ঐতিহ্য ও পরিবেশ রক্ষায় এটি পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেয় মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা প্রশাসন এবং মিরকাদিম পৌরসভা।
শনিবার সকাল ৯টায় শুরু হওয়া এই পরিচ্ছন্নতা অভিযানের নেতৃত্ব দেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও মিরকাদিম পৌর প্রশাসক মো. মাসুদুর রহমান। তাঁর উদ্যোগে পুরো কার্যক্রমটি সমন্বিতভাবে বাস্তবায়ন করা হয়। অভিযানে অংশ নেয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিডি ক্লিনের সদস্যরা, স্থানীয় পুকুরপাড়া পঞ্চায়েতের বাসিন্দারা এবং প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মীরা।
অভিযান চলাকালে পুকুরের চারপাশে জমে থাকা আবর্জনা পরিষ্কার করা হয়, পানির প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং পরিবেশগত ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার জন্য প্রাথমিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত অবস্থায় থাকায় পুকুরটি দূষিত হয়ে পড়েছিল, যা স্থানীয় পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছিল।
ইউএনও মো. মাসুদুর রহমান বলেন, এই পুকুরটি শুধু একটি জলাধার নয়, এটি এলাকার ঐতিহ্য ও ইতিহাসের অংশ। তাই এর সংরক্ষণ করা জরুরি। দীর্ঘদিন ধরে এটি অবহেলায় পড়ে থাকায় বর্জ্য জমে পরিবেশ নষ্ট হচ্ছিল। প্রশাসনের লক্ষ্য হলো পুকুরটিকে আবারও ব্যবহার উপযোগী ও সুন্দর পরিবেশে ফিরিয়ে আনা।
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ শুধুমাত্র পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি জনসচেতনতা তৈরির একটি বড় মাধ্যম। স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদী পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।
অভিযানে অংশ নেওয়া স্থানীয়রা জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে পুকুরটির এমন অবস্থা দেখে উদ্বিগ্ন ছিলেন। প্রশাসনের এই উদ্যোগে তারা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
বিডি ক্লিনের স্বেচ্ছাসেবীরা বলেন, পরিবেশ রক্ষায় মানুষের অংশগ্রহণই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এই ধরনের কার্যক্রম মানুষকে সচেতন করে তোলে এবং নিজের এলাকা পরিষ্কার রাখার মানসিকতা তৈরি করে।
স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, মুন্সীগঞ্জের মতো এলাকায় প্রাচীন জলাধারগুলো ধীরে ধীরে দখল ও দূষণের শিকার হচ্ছে। তাই এ ধরনের উদ্যোগ সময়োপযোগী এবং পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, এই পুকুরটির পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এককালীন নয়, বরং এটি নিয়মিতভাবে চালিয়ে যাওয়া হবে। পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে পুকুরটির সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য একটি স্থায়ী পরিকল্পনা নেওয়া হবে।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে শুধু একটি পুকুর পরিষ্কার করা হয়নি, বরং স্থানীয় জনগণের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধির একটি ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।