
পঞ্চগড়ে সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ভবন নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। শনিবার (৯ মে) বিকেলে পঞ্চগড় সদরের খোলাপাড়া এলাকায় এ নির্মাণকাজের ফলক উন্মোচন করেন পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নওশাদ জমির।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী সুফিয়া সুলতানা, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু দাউদ প্রধানসহ স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা প্রকল্পটির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন এবং জেলার শিক্ষা উন্নয়নে এর গুরুত্বের কথা উল্লেখ করেন।
জানা গেছে, প্রকল্পটির আওতায় ভূমি উন্নয়ন কাজের পাশাপাশি ৬ তলা বিশিষ্ট তিনটি পৃথক ভবন নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে প্রশাসনিক ভবন, একাডেমিক ভবন এবং ওয়ার্কশপ ভবন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পুরো প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় ৪০ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, পঞ্চগড়ের মতো প্রান্তিক জেলায় কারিগরি ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার সুযোগ বাড়াতে এই পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন স্থানে কারিগরি শিক্ষার চাহিদা বাড়ছে। সেই ধারাবাহিকতায় পঞ্চগড়েও শিক্ষার্থীদের আধুনিক ও কর্মমুখী শিক্ষার সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশেষ করে জেলার তরুণদের দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে এই প্রতিষ্ঠান সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট চালু হলে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন প্রযুক্তিগত বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণের সুযোগ পাবে। এর ফলে ভবিষ্যতে চাকরির পাশাপাশি আত্মকর্মসংস্থানের পথও উন্মুক্ত হবে।
এছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির মাধ্যমে বেকারত্ব কমাতেও প্রতিষ্ঠানটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। পঞ্চগড় জেলা শিক্ষা প্রকৌশল বিভাগের তত্ত্বাবধানে নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করা হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বর্তমান সময়ে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব অনেক বেড়েছে। তাই নতুন এই পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট নির্মিত হলে জেলার শিক্ষার্থীরা নিজ এলাকায় থেকেই আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাবে। এতে উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের নতুন সম্ভাবনাও তৈরি হবে।
প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে পঞ্চগড় জেলার শিক্ষা খাতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে এটি জেলার সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।