
আগামী অক্টোবর থেকে বাংলাদেশে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নতুন আচরণবিধি প্রণয়নের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
ইসি কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, আচরণবিধির খসড়া আগামী সপ্তাহের মধ্যেই কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হতে পারে। প্রকাশের পর এটি জনমত যাচাইয়ের জন্য উন্মুক্ত থাকবে, যাতে রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ এবং সাধারণ ভোটাররা মতামত দিতে পারেন।
এরপর খসড়াটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের উদ্দেশ্যে পাঠানো হবে। ইউপি নির্বাচনের আচরণবিধি চূড়ান্ত হলে সেটির ভিত্তিতে দেশের অন্যান্য স্থানীয় সরকার নির্বাচন যেমন উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, জেলা পরিষদ এবং সিটি করপোরেশনের আচরণবিধিতেও প্রয়োজনীয় সংশোধন আনা হবে।
ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, কমিশনের বৈঠক এই সপ্তাহের শেষ দিকে বা আগামী সপ্তাহের শুরুতে হতে পারে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করছে বৈঠকের চূড়ান্ত সময়সূচি।
তিনি আরও জানান, ইউপি নির্বাচনের আচরণবিধি ও ভোটগ্রহণ নির্দেশিকা নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। কমিশনের অনুমোদন পাওয়া গেলে এটি দ্রুতই জনমতের জন্য প্রকাশ করা হবে।
নতুন আচরণবিধিতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হচ্ছে। ইসি জানিয়েছে, আসন্ন ইউপি নির্বাচন হবে নির্দলীয় ভিত্তিতে। এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলের প্রতীক ব্যবহার থাকবে না।
এছাড়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন বা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অধীনে অভিযুক্ত বা পলাতক আসামিরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর সংগ্রহের বাধ্যবাধকতাও এবার বাদ দেওয়া হচ্ছে।
নতুন বিধিমালায় পোস্টার ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হচ্ছে। পাশাপাশি ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) এবং পোস্টাল ব্যালট ব্যবহারের সুযোগও থাকছে না বলে জানা গেছে।
ইসি আরও জানিয়েছে, আচরণবিধির খসড়া রাজনৈতিক দলগুলোর মতামতের জন্য পাঠানো হবে এবং একই সঙ্গে গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হবে। এরপর চূড়ান্ত রূপ দেওয়া হবে।
বর্তমানে দেশে ৪ হাজার ৫৮১টি ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে। এর মধ্যে ৩ হাজার ৬৩২টি আগামী আগস্টের মধ্যে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত হবে বলে ইসি জানিয়েছে। তবে ১০৪টি ইউপি বিভিন্ন আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে নির্বাচনের আওতার বাইরে রয়েছে।
গত দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন স্থবির থাকায় এবার নির্বাচন কমিশনের কাছে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এর আগে ইসি জানিয়েছিল, ইউপি নির্বাচনের তফসিল আগস্টে ঘোষণা করা হতে পারে এবং নির্বাচন কার্যক্রম অক্টোবর থেকে শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, বর্ষা মৌসুম শেষ হওয়ার পর ধাপে ধাপে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন করা হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন আচরণবিধি এবং নির্দলীয় কাঠামো স্থানীয় নির্বাচনী রাজনীতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে পারে, যা ভবিষ্যতের নির্বাচন ব্যবস্থাকেও প্রভাবিত করবে।