
নীলফামারীতে আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে প্রস্তাবিত বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী জেনারেল হাসপাতাল প্রকল্পে নতুন অগ্রগতি হয়েছে। এক হাজার শয্যাবিশিষ্ট এই বৃহৎ হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্পের জন্য সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন করেছে চীন সরকারের একটি উচ্চপর্যায়ের কারিগরি বিশেষজ্ঞ দল।
শনিবার (৯ মে) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে চায়না ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন এজেন্সির পরিচালক ড. ডং লি’র নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দলটি নীলফামারী সদর উপজেলার দারোয়ানী টেক্সটাইল মিলস সংলগ্ন প্রস্তাবিত স্থান পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে বিশেষজ্ঞ দলটি পুরো এলাকা ঘুরে দেখেন এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের সম্ভাব্যতা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেন। তারা বিশেষভাবে পানি সরবরাহ ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ সংযোগ, সড়ক যোগাযোগ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং পরিবেশগত দিকগুলো খতিয়ে দেখেন।
চীনা প্রতিনিধি দল মনে করে, একটি বৃহৎ হাসপাতাল প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য এসব মৌলিক অবকাঠামো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে তারা সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেন।
এ সময় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের উপসচিব ফাতিমা-তুজ-জোহরা এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিকল্পনা ও গবেষণা বিভাগের পরিচালক ডা. আফরিন মাহমুদ চীনা দলকে সার্বিক সহযোগিতা করেন।
এছাড়া নীলফামারী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান, সিভিল সার্জন ডা. আব্দুর রাজ্জাক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. সাইদুল ইসলাম এবং গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাকিউজ্জামান উপস্থিত থেকে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য উপস্থাপন করেন।
স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের উপসচিব ফাতিমা-তুজ-জোহরা জানান, চীনা কারিগরি বিশেষজ্ঞ দল প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ শেষে একটি প্রতিবেদন প্রস্তুত করে তাদের সরকারের কাছে জমা দেবে। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এরপর আরও একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল স্থানটি পুনরায় পরিদর্শন করতে পারে।
তিনি আরও জানান, প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়সূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এটি সম্পূর্ণভাবে চীনা সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে। তবে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে স্বাস্থ্যখাতে বড় ধরনের উন্নয়ন ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পরিদর্শন শেষে চীনা বিশেষজ্ঞ দলটি নীলফামারী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালও পরিদর্শন করে। সেখানে তারা হাসপাতালের চিকিৎসক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। বর্তমান স্বাস্থ্যসেবার অবস্থা, রোগী ব্যবস্থাপনা, চিকিৎসা সুবিধা এবং জনবল সংকটসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
স্থানীয়ভাবে এই প্রকল্পকে ঘিরে ব্যাপক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। এক হাজার শয্যার আধুনিক হাসপাতাল নির্মিত হলে উত্তরাঞ্চলের মানুষ উন্নত চিকিৎসাসেবা পাবেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে জরুরি চিকিৎসা, ক্যান্সার ও জটিল রোগের চিকিৎসায় বিদেশমুখী নির্ভরতা অনেকটাই কমে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চীনের কারিগরি দলটির এই পরিদর্শনকে প্রকল্প বাস্তবায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনও আশা করছে, শিগগিরই প্রকল্পটি চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়ে বাস্তবায়ন পর্যায়ে প্রবেশ করবে।
সব মিলিয়ে নীলফামারীর এই প্রস্তাবিত হাসপাতাল প্রকল্প শুধু জেলার নয়, পুরো উত্তরাঞ্চলের স্বাস্থ্যখাতে একটি বড় পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।