
কুমিল্লার মেঘনা উপজেলায় নতুন রাস্তা নির্মাণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানিয়েছে। শুক্রবার (৮ মে) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার চন্দনপুর ইউনিয়নের তুলাতলী গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় নতুন রাস্তা নির্মাণ নিয়ে দুটি পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এক পক্ষের নেতৃত্বে ছিলেন আব্দুল বাতেন মৃধা এবং অন্য পক্ষের নেতৃত্বে ছিলেন চন্দনপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য নাছির উদ্দিন মেম্বার।
বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য শুক্রবার রাতে স্থানীয়ভাবে একটি সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। তবে বৈঠকে এক পক্ষ উপস্থিত না থাকায় কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। পরে সালিশ শেষে লোকজন নিজ নিজ বাড়ির দিকে ফিরে যাওয়ার সময় তুলাতলী মৃধা বাড়ির নতুন মাটির রাস্তার ওপর দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।
সংঘর্ষে আব্দুল বাতেন মৃধার পক্ষের আজিজ (৪৫) ও তার ছোট ভাই দেলোয়ার হোসেন গুরুতর আহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষের সময় ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করা হয় এবং এতে দেলোয়ার হোসেনের মাথা ও শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর আঘাত লাগে।
আহতদের দ্রুত স্থানীয় মেঘনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে দেলোয়ার হোসেনের অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত আনুমানিক ৪টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।
নিহত দেলোয়ার হোসেন উপজেলার তুলাতলী এলাকার মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে। তার মৃত্যুর খবরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
অন্যদিকে সংঘর্ষে নাছির উদ্দিন মেম্বার (৪৫) এবং তার সহযোগী হালিম (৩৮) আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তাদের শরীরেও ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান। সংঘর্ষের পর এলাকায় চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, সংঘর্ষের পর আব্দুল বাতেন মৃধার বাড়িঘরে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। তবে এ বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
মেঘনা থানার ওসি (তদন্ত) আমিনুল ইসলাম জানান, সংঘর্ষে একজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে তিনি জানান।
পুলিশ বলছে, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। কীভাবে সংঘর্ষ শুরু হলো এবং কারা এতে সরাসরি জড়িত ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি এলাকায় নতুন করে কোনো সহিংসতা যাতে না ঘটে, সেজন্য নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, একটি সাধারণ রাস্তা নির্মাণ নিয়ে এমন রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ খুবই দুঃখজনক। তারা দ্রুত দোষীদের শনাক্ত করে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।