
ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর এক মাদরাসাছাত্রের মরদেহ সেপটিক ট্যাংক থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (৯ মে) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার জমিনপুর গ্রামের একটি বাড়ি থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত শিশুর নাম আন্দালিব রহমান রাফি (৮)। সে মুক্তাগাছা উপজেলার জমিনপুর গ্রামের বাসিন্দা জহিরুল ইসলামের ছেলে এবং স্থানীয় একটি মাদরাসার ছাত্র ছিল।
মুক্তাগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম জানান, শিশুটি গতকাল দুপুর থেকেই নিখোঁজ ছিল। অনেক খোঁজাখুঁজির পর না পেয়ে তার পরিবার থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে। এরপর পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করে।
তদন্তের সময় স্থানীয় এক প্রতিবেশী খোকন মিয়ার আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ আজ দুপুরে খোকনের বাড়িতে অভিযান চালায়।
অভিযানের সময় বাড়ির ভেতরে থাকা সেপটিক ট্যাংকের নিচে শিশুটির মরদেহ পাওয়া যায়। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
পুলিশ জানায়, খোকন মিয়ার দেওয়া তথ্যই তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ মোড় নেয়। তাকে আরও বিস্তারিতভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনার পেছনে কী কারণ রয়েছে, তা উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক মাস আগে নিহত শিশুর বাবা জহিরুল ইসলামের সঙ্গে খোকন মিয়ার একটি বিষয় নিয়ে বিরোধ হয়েছিল। তবে সেই বিরোধ কীভাবে এমন ভয়াবহ ঘটনার দিকে গড়াল, তা এখনো পরিষ্কার নয়।
ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। শিশুটির পরিবার ও স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও দায়ীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয়রা বলছেন, একটি শিশুর এমন নির্মম মৃত্যুর ঘটনা এলাকায় নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তারা দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে আরও সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে এবং প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণও চালানো হচ্ছে।
মুক্তাগাছা থানা পুলিশ বলছে, এটি নিছক নিখোঁজের ঘটনা ছিল না, এর পেছনে পরিকল্পিত কোনো অপরাধ রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।
এই ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে যাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।