
সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট Mohsin Rashid বলেছেন, দেশের সংসদীয় রাজনীতিতে আইনজীবীদের অংশগ্রহণ কমে গিয়ে ব্যবসায়ীদের প্রভাব বেড়েছে। তার মতে, এর ফলে আইন প্রণয়ন ও ন্যায়বিচারের বিষয়গুলো গুরুত্ব হারাচ্ছে।
শনিবার (৯ মে) বাংলাদেশ আইনজীবী অধিকার রক্ষা পরিষদের প্রতিষ্ঠা সভায় স্বাগত বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে দেশের বিচারব্যবস্থা, মামলা জট এবং আইনজীবী সমাজের বিভিন্ন সংকট নিয়ে আলোচনা হয়।
মহসিন রশিদ বলেন, অতীতে জাতীয় সংসদ কিংবা ব্রিটিশ আমলের আইনসভায় আইনজীবীদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। কারণ আইনজীবীরা আইন প্রণয়ন এবং বিচারব্যবস্থার বাস্তব দিকগুলো সম্পর্কে ভালো ধারণা রাখেন। কিন্তু বর্তমানে সেই ধারা বদলে গেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তার ভাষায়, এখন সংসদে ব্যবসায়ীদের সংখ্যা বাড়ছে এবং তারা অনেক ক্ষেত্রে নিজেদের স্বার্থকে প্রাধান্য দেন। এতে আইন ও ইনসাফের বিষয়গুলো উপেক্ষিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিচারব্যবস্থার বিভিন্ন সমস্যা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন এই জ্যেষ্ঠ আইনজীবী। তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্টে এমন ধারণা তৈরি হয়েছে যে কোন বিচারককে কে নিয়োগ দিয়েছেন, সেটি বিচারপ্রার্থীদের জন্য বিবেচ্য হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তার মতে, এ ধরনের পরিস্থিতি বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে উচ্চ ও নিম্ন আদালতে বিপুল মামলা জট বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার দাবি, দেশে বর্তমানে প্রায় ৪ থেকে ৫ মিলিয়ন মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এত বিপুল মামলার চাপের কারণে বিচারপ্রার্থীরা দ্রুত বিচার পাচ্ছেন না।
মহসিন রশিদ বলেন, আদালতের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত সাধারণ মানুষের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। বিচারপ্রার্থীরা আদৌ সঠিক বিচার পাচ্ছেন কি না, সেটি গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে।
অনুষ্ঠানে তিনি নতুন সংগঠন বাংলাদেশ আইনজীবী অধিকার রক্ষা পরিষদ সম্পর্কে বলেন, এটি একটি অরাজনৈতিক সংগঠন। এখানে ব্যক্তিগতভাবে কেউ রাজনীতি করতে পারলেও সংগঠন হিসেবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করা হবে না।
তিনি দাবি করেন, বর্তমানে আইনজীবী সংগঠনগুলো নানা বিভাজনের মধ্যে রয়েছে। এ অবস্থায় রাজনীতির বাইরে থেকে আইনজীবীদের স্বার্থ, ন্যায়বিচার এবং ইনসাফ নিশ্চিত করতে নতুন এই সংগঠন কাজ করবে।
অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী Md. Helal Uddin। তিনি আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি Krishna Debnath-এর পাঠানো শুভেচ্ছা বার্তা পড়ে শোনান।
সভায় অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন হাইকোর্ট বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি Emdadul Haque Azad। এছাড়া দেশের বিভিন্ন জেলা আইনজীবী সমিতি থেকে আসা প্রতিনিধিরাও বিচারব্যবস্থার বিভিন্ন সমস্যা ও আইনজীবীদের পেশাগত চ্যালেঞ্জ নিয়ে মতামত তুলে ধরেন।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বিচারব্যবস্থায় আস্থা ফিরিয়ে আনতে স্বচ্ছতা, দ্রুত বিচার এবং পেশাগত নৈতিকতার বিষয়গুলোকে আরও গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি মামলা জট কমাতে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সব মিলিয়ে বাংলাদেশ আইনজীবী অধিকার রক্ষা পরিষদের এই প্রতিষ্ঠা সভায় দেশের বিচারব্যবস্থা, আইন প্রণয়ন এবং আইনজীবী সমাজের বর্তমান বাস্তবতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা উঠে এসেছে।