
ঠাকুরগাঁওয়ে বেকারত্ব কমাতে এবং শিল্পায়নকে আরও গতিশীল করতে নতুন শিল্প পার্ক গড়ে তোলা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রয়োজন অনুযায়ী আরও শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপন করা হবে, যাতে দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীর জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়।
শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি ঠাকুরগাঁও বিসিক খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পনগরী পরিদর্শনে এসে এসব কথা বলেন। পরিদর্শনের সময় তিনি নতুন শিল্প উদ্যোগ, বিনিয়োগ সম্ভাবনা এবং চলমান প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
শিল্পমন্ত্রী জানান, ঠাকুরগাঁওয়ে ইতোমধ্যে একটি ইপিজেড রয়েছে, যেখানে বিভিন্ন শিল্প উদ্যোক্তা তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। নতুনভাবে নির্মাণাধীন বিসিক শিল্পনগরীতে খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে কয়েকজন উদ্যোক্তার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং তারা প্লট নিয়ে নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
এই প্রকল্পের অধীনে প্রায় ৫০ একর জায়গাজুড়ে একটি আধুনিক শিল্প পার্ক গড়ে তোলা হচ্ছে, যেখানে মোট ২৫১টি প্লট থাকবে। এসব প্লটে বিভিন্ন ধরনের শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে। উদ্যোক্তারা প্রয়োজন অনুযায়ী একাধিক প্লট নিয়ে বড় আকারের শিল্প স্থাপন করতে পারবেন বলে জানান মন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, এই উদ্যোগ সফল হলে ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও এমন শিল্পনগরী গড়ে তোলা হবে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো দ্রুত কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা এবং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে আরও শক্তিশালী করা।
শিল্পমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য হলো দেশের জনগোষ্ঠীকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করা। পাশাপাশি বিদ্যমান জনশক্তির দক্ষতা বৃদ্ধি করে তাদের জন্য টেকসই কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা। এই লক্ষ্যেই সরকার বিভিন্ন শিল্প ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।
তিনি আরও বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ের নতুন শিল্পনগরী পরিদর্শন সেই চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমেরই অংশ। সরকার চায় স্থানীয় পর্যায়ে শিল্পায়ন বৃদ্ধি পাক এবং গ্রামীণ অর্থনীতিও শক্তিশালী হোক।
এছাড়া তিনি কৃষি খাতের সঙ্গে শিল্প খাতের সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে ঠাকুরগাঁওয়ে নতুন নতুন রপ্তানিযোগ্য ফসল উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিশেষ করে আলু ভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
মন্ত্রী জানান, দেশে প্রচুর পরিমাণে আলু উৎপাদিত হলেও রপ্তানিযোগ্য আলুর ঘাটতি রয়েছে। তাই নতুন জাত উদ্ভাবন ও মানসম্মত উৎপাদনের মাধ্যমে রপ্তানিযোগ্য আলু তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
পরিদর্শনের সময় ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক, বিসিক শিল্পনগরীর উদ্যোক্তারা এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তারা নতুন শিল্প প্রকল্পকে স্বাগত জানান এবং এর মাধ্যমে এলাকার অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
পরবর্তীতে শিল্পমন্ত্রী ঠাকুরগাঁও পুরাতন বিসিক শিল্পনগরীর বিভিন্ন কারখানা পরিদর্শন করেন এবং উদ্যোক্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। পরিদর্শন শেষে তিনি পঞ্চগড়ের উদ্দেশে রওনা দেন।
সব মিলিয়ে এই উদ্যোগকে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও শিল্পায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক চিত্র বদলে দিতে পারে।