
যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় এসব হামলায় একজন উদ্ধারকর্মীসহ অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
সংঘাত শুরুর পর থেকে নিহতের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। সরকারি তথ্যমতে, চলমান সহিংসতায় এখন পর্যন্ত মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২,৭৫৯ জনে।
শুক্রবার লেবাননের তোরা শহরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় দুই নারীসহ চারজন নিহত এবং আটজন আহত হন। হামলার পর ধ্বংসস্তূপের নিচে এক কিশোরীর সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে। একই সময়ে ব্লাত শহর থেকে নিখোঁজ দুই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে রেড ক্রস।
এছাড়া হাসবায়া জেলায় ড্রোন হামলায় একজন উদ্ধারকর্মীর মৃত্যু হয়েছে। নাবাতিয়েহ ও সিডনসহ বিভিন্ন গ্রামেও প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
যদিও কাগজে-কলমে যুদ্ধবিরতি বিদ্যমান, বাস্তবে সীমান্ত পরিস্থিতি এখনও অস্থির। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দক্ষিণ লেবাননের একাধিক এলাকায় নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে এবং নতুন করে বাসিন্দাদের এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে।
অন্যদিকে হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, তারা যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জবাবে ইসরায়েলি সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এসব পাল্টা হামলায় অন্তত তিনজন ইসরায়েলি সেনা আহত হয়েছে বলে জানা গেছে।
সংঘাতের সমাধানে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কূটনৈতিক উদ্যোগও চলছে। আগামী ১৪ ও ১৫ মে ওয়াশিংটনে দ্বিতীয় দফার আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যস্থতা করবে।
আলোচনার মূল লক্ষ্য হলো সীমান্ত নির্ধারণ, সেনা প্রত্যাহারের সময়সূচি এবং লেবাননে মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার জন্য একটি স্থায়ী কাঠামো তৈরি করা।
লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম জানিয়েছেন, তারা আলোচনায় বিশেষভাবে সেনা প্রত্যাহার এবং দেশের সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধারের বিষয়টি জোরালোভাবে উপস্থাপন করবেন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সীমান্ত অঞ্চলে উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। আন্তর্জাতিক মহল দ্রুত সংঘাত নিরসনের আহ্বান জানাচ্ছে।