
রাজধানীর সায়েদাবাদ এলাকায় বন্ধ করে দেওয়া ২৪০টি বাস কাউন্টার আবার খুলে দিয়েছেন মালিকরা, যা ঘিরে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি এসব কাউন্টার সিলগালা করা হলেও মাস না পেরোতেই আবার কার্যক্রম শুরু হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (Dhaka South City Corporation) জানিয়েছিল, অনুমোদনবিহীন ও অবৈধ ২৪০টি বাস কাউন্টার শনাক্ত করে এগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। ৮ এপ্রিল সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে কয়েকটি কাউন্টার ভেঙে দেওয়া হয় এবং সড়ক দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
অভিযানের মূল উদ্দেশ্য ছিল সড়কের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং বাসগুলোকে নির্ধারিত টার্মিনালের ভেতরে স্থানান্তর করা। কিন্তু অভিযানের কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই দেখা যায়, বন্ধ করে দেওয়া কাউন্টারগুলো আবারও খুলতে শুরু করেছে এবং সেখানে টিকিট বিক্রিও চলছে।
কাউন্টার ব্যবস্থাপকদের দাবি, তারা মালিক সমিতির সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে তিন মাসের একটি সময় পেয়েছেন। শ্যামলি পরিবহনের এক কাউন্টার ব্যবস্থাপক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তালা খোলার সময় মালিক সমিতির লোকজন উপস্থিত ছিলেন এবং তারা অস্থায়ীভাবে সময় দিয়েছেন। তার ভাষায়, “টার্মিনালে পর্যাপ্ত জায়গা নেই, যাত্রীদের বসার ব্যবস্থাও নেই। তাই বাধ্য হয়ে সড়কের পাশে কাউন্টার চালাতে হচ্ছে।”
তবে এই দাবির সঙ্গে একমত নয় সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ। ডিএসসিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এয়ার কমোডর মো. মাহবুবুর রহমান তালুকদার স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, কাউকে কোনো ধরনের তালা ভাঙার অনুমতি দেওয়া হয়নি এবং তিন মাসের সময় দেওয়ার বিষয়টিও সঠিক নয়। তিনি বলেন, “প্রয়োজনে আমরা টার্মিনালের ভেতরে কাউন্টার করে দেব, তাদের সব ধরনের সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করছি। তারপরও তারা নিয়ম না মেনে তালা ভেঙে কার্যক্রম শুরু করেছে।”
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিবহন খাতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। একদিকে মালিকরা বলছেন, যাত্রীসেবা ও স্থান সংকটের কারণে তারা সড়কের পাশেই কাউন্টার পরিচালনা করতে বাধ্য হচ্ছেন। অন্যদিকে সিটি করপোরেশন বলছে, এটি নিয়মবহির্ভূত এবং নগর ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষতিকর।
এর আগে সড়ক দখল ও অব্যবস্থাপনা কমাতে রাজধানীতে বিভিন্ন সময় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই যানজট ও অবৈধ কাউন্টার ব্যবস্থাপনার কারণে আলোচনায় রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের পরিস্থিতি সমাধানে পরিবহন মালিক, শ্রমিক সংগঠন এবং সিটি করপোরেশনের মধ্যে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রয়োজন। শুধু অভিযান বা উচ্ছেদ দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান পাওয়া কঠিন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সায়েদাবাদের ২৪০ বাস কাউন্টারকে ঘিরে যে টানাপড়েন তৈরি হয়েছে, তা নগর পরিবহন ব্যবস্থাপনায় নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। প্রশাসনের অনুমতি ও নিয়মনীতি মানা নিয়ে যে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে, তা শিগগিরই সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।