
তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে সরকার গঠনকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন অনিশ্চয়তা ও উত্তেজনা। ভোটের ফল ঘোষণার কয়েকদিন পরও রাজ্যে কোনো স্পষ্ট সরকার গঠনের চিত্র দেখা যায়নি। প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় একাধিকবার রাজভবনে গিয়ে ফেরত আসতে হয়েছে থালাপতি বিজয়কে, যিনি রাজনৈতিক দল Tamilaga Vettri Kazhagam-এর নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই এবার আইনি জটিলতায় জড়িয়ে পড়েছেন তিনি। অভিযোগ উঠেছে, আম্মা মাক্কাল মুন্নেত্রা কাজাঘাম (এএমএমকে)-এর একমাত্র বিধায়কের ভুয়া সমর্থনপত্র দেখিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতার দাবি করা হয়েছে। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
রাজনৈতিক সূত্র অনুযায়ী, শুক্রবার রাতে থালাপতির দল দাবি করেছিল যে তারা সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, মোট ১১৮ জন বিধায়কের সমর্থন রয়েছে, যার ভিত্তিতে তারা দ্রুত সরকার গঠনের প্রস্তুতির কথা জানায়। এমনকি ধারণা করা হচ্ছিল, শনিবারই থালাপতি বিজয় মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে পারেন।
তবে এই দাবি প্রকাশের কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিস্থিতি বদলে যায়। লোকভবন সূত্র জানায়, সংখ্যাগরিষ্ঠতার মৌখিক দাবি করা হলেও লিখিত কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। এরপরই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
এর মধ্যে এএমএমকে দলের সাধারণ সম্পাদক টিটিভি দিনাকরণ থালাপতি বিজয়ের বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। তার অভিযোগ অনুযায়ী, এএমএমকে-র একমাত্র বিধায়ক এস কামরাজের ভুয়া সমর্থনপত্র রাজ্যপালের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। দিনাকরণ দাবি করেন, ওই বিধায়ক আসলে থালাপতির দলকে কোনো ধরনের সমর্থন দেননি।
অন্যদিকে, থালাপতির দল এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। তারা সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করে দাবি করে যে, সংশ্লিষ্ট বিধায়ক নিজেই সমর্থনপত্রে স্বাক্ষর করেছেন এবং দলীয় প্রক্রিয়ায় সেটি বৈধভাবে অনুমোদিত হয়েছে। তবে এই ভিডিওর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।
এদিকে তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে কারণ রাজ্যের দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দল ডিএমকে এবং এডিএমকে আলাদাভাবে সরকার গঠনের চেষ্টা চালাচ্ছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে থালাপতির দল এককভাবে সরকার গঠনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি তামিলনাড়ুর ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। কংগ্রেসের একাংশের দাবি, রাজ্যপাল ও কেন্দ্রীয় ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক শক্তি থালাপতির দলকে সরকার গঠনে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে। যদিও এসব দাবি এখনো রাজনৈতিক পর্যায়ের আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
অন্যদিকে, রাজ্যপালকে নির্দেশ দিয়ে থালাপতির দলকে সরকার গঠনের সুযোগ দেওয়ার দাবিতে একটি মামলা সুপ্রিম কোর্টে দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি ঘিরেও রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সব মিলিয়ে তামিলনাড়ুর বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এক অনিশ্চিত ও উত্তেজনাপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সরকার গঠন, সংখ্যাগরিষ্ঠতার দাবি এবং ভুয়া সমর্থনপত্রের অভিযোগ—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এখন আদালত ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।