
বাংলাদেশের বিপক্ষে চলমান টেস্ট সিরিজে পাকিস্তান ক্রিকেট দলের তারকা ব্যাটার Babar Azam দ্বিতীয় টেস্টে ফেরার সম্ভাবনায় রয়েছেন। হাঁটুর চোটে আক্রান্ত হওয়ায় প্রথম টেস্টে তাকে বিশ্রামে রাখা হয়েছিল, তবে সাম্প্রতিক মেডিকেল রিপোর্টে গুরুতর কোনো জটিলতা ধরা না পড়ায় তার দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার ইঙ্গিত মিলেছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রথম টেস্টের আগে অনুশীলনের সময় বাবর আজম বাঁ হাঁটুতে ব্যথা অনুভব করেন। এরপর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাকে এমআরআই স্ক্যান করানো হয়। পরীক্ষার ফলাফলে বড় ধরনের কোনো ইনজুরি ধরা না পড়লেও মেডিকেল টিম তাকে বিশ্রামে রাখার পরামর্শ দেয়। ফলে পাকিস্তান টিম ম্যানেজমেন্ট তাকে বাংলাদেশ সফরের প্রথম টেস্ট থেকে বাইরে রাখে।
যদিও মাঠের বাইরে থাকা নিয়ে নানা আলোচনা থাকলেও জানা গেছে, বাবর আজম নিজে পুরোপুরি বিশ্রামের পক্ষে ছিলেন না। তবে দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও খেলোয়াড়ের দীর্ঘমেয়াদি ফিটনেস বিবেচনায় ম্যানেজমেন্ট তাকে প্রথম টেস্টে না খেলানোর সিদ্ধান্ত নেয়। এই সিদ্ধান্ত মূলত ঝুঁকি এড়ানোর কৌশল হিসেবে নেওয়া হয়, যাতে তার চোট আরও গুরুতর না হয়।
বর্তমানে বাবর আজম ধীরে ধীরে অনুশীলনে ফিরেছেন এবং স্বাভাবিক ব্যাটিং রিদমে ফিরে আসার চেষ্টা করছেন। পাকিস্তান দলের ট্রেনিং সেশনে তাকে হালকা অনুশীলনে অংশ নিতে দেখা গেছে। মেডিকেল টিমও তার অবস্থার উন্নতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং ধাপে ধাপে তাকে পূর্ণ ফিটনেসে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা করছে।
আগামী ১৬ মে সিলেটে শুরু হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট। সেই ম্যাচকে ঘিরে এখন ক্রিকেট ভক্তদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন বাবর আজম। দলীয় সূত্রের ইঙ্গিত অনুযায়ী, সবকিছু পরিকল্পনামতো এগোলে এই ম্যাচে পাকিস্তানের একাদশে তার ফেরার সম্ভাবনাই বেশি।
পাকিস্তান দলের জন্য বাবর আজমের ফেরা গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, কারণ তিনি দলের ব্যাটিং লাইনআপের অন্যতম ভরসা। অভিজ্ঞতা ও ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের কারণে দীর্ঘ সময় ধরে তিনি পাকিস্তান ক্রিকেটের মূল স্তম্ভ হিসেবে পরিচিত। তার উপস্থিতি দলের ব্যাটিং শক্তিকে আরও স্থিতিশীল করে তোলে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ দলও এই সিরিজে নিজেদের ঘরের মাঠের সুবিধা কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে। ফলে দ্বিতীয় টেস্টটি দুই দলের জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বাবর আজম মাঠে ফিরলে ম্যাচের প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, বাবর আজমের ইনজুরি পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং তার দ্রুত পুনরাগমনের সম্ভাবনা পাকিস্তান শিবিরে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। ক্রিকেট ভক্তরা এখন অপেক্ষা করছেন সিলেট টেস্টে তার প্রত্যাবর্তনের জন্য, যা সিরিজের গতিপথেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।