
পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে কথিত মাদক পাচারের অভিযোগে সন্দেহভাজন একটি নৌকায় আবারও হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। শুক্রবার পরিচালিত এই অভিযানে দুইজন নিহত হয়েছেন এবং একজন জীবিত উদ্ধার হয়েছেন বলে জানিয়েছে মার্কিন সাউদার্ন কমান্ড।
ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। ভিডিওতে দেখা যায়, সমুদ্রে থাকা একটি কালো রঙের নৌকাকে লক্ষ্য করে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। বিস্ফোরণের পরপরই সমুদ্রের ওপর আগুনের শিখা ছড়িয়ে পড়তে দেখা যায়।
মার্কিন সাউদার্ন কমান্ড জানিয়েছে, হামলার পরপরই বেঁচে যাওয়া ব্যক্তির জন্য অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চালাতে মার্কিন কোস্ট গার্ডকে অবহিত করা হয়। পরে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করা হয়।
হোয়াইট হাউস সম্প্রতি জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি নতুন সন্ত্রাসবিরোধী কৌশলে স্বাক্ষর করেছেন। সেই কৌশলের অংশ হিসেবে পশ্চিম গোলার্ধে মাদক গোষ্ঠীগুলোকে নির্মূল করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগর, ক্যারিবীয় সাগর এবং লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন জলসীমায় সন্দেহভাজন মাদক পাচারকারী নৌযানের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে শুরু হওয়া এসব অভিযানে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৯৩ জন নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে সমালোচকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র যেসব নৌকাকে লক্ষ্যবস্তু করছে, সেগুলোতে সত্যিই মাদক ছিল কি না, তার সুস্পষ্ট প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি। ফলে এসব হামলার বৈধতা ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ট্রাম্প প্রশাসন আঞ্চলিক দেশগুলোর ওপরও চাপ বাড়িয়েছে বলে জানা গেছে। যুক্তরাষ্ট্র চাইছে, লাতিন আমেরিকার দেশগুলো নিজেদের ভূখণ্ডে সক্রিয় মাদক গোষ্ঠী ও আন্তর্জাতিক অপরাধচক্র দমনে আরও কঠোর সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণ করুক।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি, আন্তর্জাতিক মাদকচক্র ও গ্যাংগুলো পুরো পশ্চিম গোলার্ধের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই তাদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তবে মানবাধিকারকর্মী ও বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, আন্তর্জাতিক জলসীমায় এ ধরনের হামলা নতুন কূটনৈতিক ও আইনি সংকট তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে যথাযথ তদন্ত ছাড়াই প্রাণঘাতী অভিযান চালানোর ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে।