
সাবেক সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক Golam Mawla Rony বলেছেন, চাঁদাবাজি বন্ধে বিএনপি যদি অতীতের ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’-এর আদলে বড় ধরনের অভিযান পরিচালনা করে, তাহলে দলটিই সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়তে পারে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ‘তিনতন্ত্র’ নামের একটি ভিডিও আলোচনায় তিনি এ মন্তব্য করেন। সেখানে তিনি বলেন, কোনো কার্যকর সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করতে হলে সেনাবাহিনীকে পূর্ণ স্বাধীনতা, রাজনৈতিক সমর্থন এবং আইনি সুরক্ষা দিতে হবে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই ধরনের পারস্পরিক আস্থা ও পরিবেশ রয়েছে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
রনি বলেন, শুধু তালিকা তৈরি করে বিচ্ছিন্নভাবে কিছু ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করলে সমস্যার সমাধান হবে না। তিনি উল্লেখ করেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তালিকায় কয়েকশ ব্যক্তির নাম থাকলেও বাস্তবে অল্প কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। এতে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক অঙ্গনে এমন আলোচনা রয়েছে যে কিছু ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে মাঠ ফাঁকা করে নির্দিষ্ট কিছু এলাকা অন্য গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে দেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। এভাবে বিচ্ছিন্ন অভিযান চালিয়ে চাঁদাবাজি বন্ধ করা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
Operation Clean Heart-এর প্রসঙ্গ টেনে গোলাম মাওলা রনি বলেন, অতীতে বিএনপি সরকারের সময় যেভাবে কঠোর অভিযান পরিচালিত হয়েছিল, এখন যদি তার চেয়েও শক্তিশালীভাবে ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট টু’ চালানো হয়, তাহলে সেটির রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক প্রভাব ভয়াবহ হতে পারে।
তিনি সাবেক সেনাপ্রধান Hasan Mashhud Chowdhury-এর সততা ও দক্ষতার প্রশংসা করেন এবং বর্তমান সেনাপ্রধান Waker-Uz-Zaman-কে ঘিরে রাজনৈতিক আস্থা ও সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তার মতে, এমন বড় ধরনের অভিযান পরিচালনা করতে গেলে সেনাবাহিনীর জন্য নিরাপদ আইনি সুরক্ষা ও রাজনৈতিক নিশ্চয়তা প্রয়োজন হবে।
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের অভিযানে বিএনপিরই বহু নেতাকর্মী গ্রেপ্তার বা হতাহতের শিকার হতে পারেন। কারণ মাঠপর্যায়ে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তাদের বড় অংশই বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে দাবি করেন তিনি।
রনির মতে, কঠোর অভিযান চালানো হলে বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি, মাঠ পর্যায়ের প্রভাব এবং রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। সেই সুযোগে অন্য রাজনৈতিক দলগুলো শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে এবং দেশের রাজনৈতিক ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।
তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, বিএনপি যদি তাদের “মাসল পাওয়ার” ও সংগঠনভিত্তিক প্রভাব হারিয়ে ফেলে, তাহলে রাজনৈতিক ময়দানে নতুন সমীকরণ তৈরি হবে। এতে Bangladesh Nationalist Party-এর রাজনৈতিক অবস্থান দুর্বল হতে পারে এবং অন্যান্য দল প্রভাব বিস্তারের সুযোগ পেতে পারে।
এ ছাড়া সেনাবাহিনীর বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন গোলাম মাওলা রনি। তার দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে কিছু সেনা কর্মকর্তাকে আদালতে নেওয়া ও বাহিনীকে ঘিরে বিভিন্ন মন্তব্যের কারণে সদস্যদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের অভিযানে তারা আগের মতো সক্রিয় ও দৃঢ়ভাবে অংশ নেবে কি না, সেটিও প্রশ্নসাপেক্ষ বলে মন্তব্য করেন তিনি।