
পারস্য উপসাগরজুড়ে নতুন করে শুরু হওয়া সংঘর্ষ ও সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের অর্থনীতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মূল্যায়ন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ। সংস্থাটির মতে, মার্কিন অবরোধ ও নৌ-চাপ সত্ত্বেও ইরানের অর্থনীতি দ্রুত ধসে পড়ার সম্ভাবনা নেই।
৭ এপ্রিল ঘোষিত যুদ্ধবিরতির পর চলতি সপ্তাহে হরমুজ প্রণালীতে সবচেয়ে বড় ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যেই শুক্রবার (৮ মে) সংযুক্ত আরব আমিরাত লক্ষ্য করে ইরান থেকে দুইটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও তিনটি ড্রোন ছোড়া হয় বলে দাবি করা হয়েছে।
আমিরাতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হামলাগুলো প্রতিহত করতে সক্ষম হলেও এতে অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। ঘটনাটি নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করে তুলেছে।
এমন পরিস্থিতিতে প্রকাশিত সিআইএ’র একটি গোয়েন্দা মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ প্রত্যাশিত দ্রুত ফল দিচ্ছে না। প্রায় চার মাস ধরে অবরোধ চললেও দেশটির অর্থনীতি এখনই বড় ধরনের ধসের মুখে পড়বে না বলে মনে করছেন মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।
মূল্যায়নে উল্লেখ করা হয়, তেহরান এখনো কয়েক মাস পর্যন্ত এই অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলা করার সক্ষমতা ধরে রেখেছে। ফলে শুধু অর্থনৈতিক অবরোধের মাধ্যমে ইরানকে দ্রুত নতি স্বীকারে বাধ্য করা কঠিন হতে পারে।
এদিকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং চলমান সংঘাত বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে একটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠিয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বর্তমানে ইতালির রোম সফরে রয়েছেন।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র খুব দ্রুত তেহরানের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক জবাব প্রত্যাশা করছে। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা এখনো মার্কিন প্রস্তাবটি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছে।
শুক্রবার গভীর রাত পর্যন্ত এ বিষয়ে তেহরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত বা প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা বৃদ্ধি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের তেল পরিবহন এই জলপথ দিয়েই সম্পন্ন হয়।