
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে হঠাৎ করেই বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করেছেন বিশ্বের বহু জনপ্রিয় তারকা ও কনটেন্ট নির্মাতারা। এক রাতের ব্যবধানে লাখ লাখ ফলোয়ার কমে যাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকে এই ঘটনাকে ‘দ্য গ্রেট পার্জ অব ২০২৬’ নামেও উল্লেখ করছেন।
জানা গেছে, ইনস্টাগ্রামের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা ভুয়া, নিষ্ক্রিয় এবং বট অ্যাকাউন্ট সরানোর একটি বড় ধরনের কার্যক্রম শুরু করেছে। এর প্রভাবেই অসংখ্য জনপ্রিয় অ্যাকাউন্টের ফলোয়ার সংখ্যা হঠাৎ কমে গেছে। যদিও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেয়নি মেটা।
সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে বিশ্বখ্যাত কয়েকজন তারকার ফলোয়ার কমে যাওয়ার বিষয়টি। তথ্য অনুযায়ী, কাইলি জেনার হারিয়েছেন ১ কোটি ৪০ লাখের বেশি ফলোয়ার। ফুটবল তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর ফলোয়ার কমেছে প্রায় ৮০ লাখ এবং গায়িকা ও অভিনেত্রী সেলেনা গোমেজ হারিয়েছেন প্রায় ৬০ লাখ ফলোয়ার।
এছাড়াও টেইলর সুইফটের প্রায় ৪২ লাখ, কিম কার্দাশিয়ানের ৫২ লাখ, কেটি পেরির প্রায় ৩০ লাখ এবং জেনিফার লোপেজের ৩৫ লাখ ফলোয়ার কমেছে বলে জানা গেছে। বলিউড অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার ক্ষেত্রেও ১২ লাখের বেশি ফলোয়ার কমে যাওয়ার খবর প্রকাশ পেয়েছে।
শুধু হলিউড বা বলিউড তারকারাই নন, এই প্রভাব পড়েছে ক্রীড়াজগতের অনেক জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বের ওপরও। লিওনেল মেসি, বিরাট কোহলি, জাস্টিন বিবার, রিহানা, শাকিরা, ডুয়া লিপা, লেডি গাগা, বিলি আইলিশ, বিয়ন্সে এবং আরিয়ানা গ্রান্ডের মতো তারকারাও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ফলোয়ার হারিয়েছেন বলে বিভিন্ন অনলাইন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
এদিকে কে-পপ জগতের জনপ্রিয় ব্যান্ড বিটিএস এবং ব্ল্যাকপিংকের ভক্তরাও অভিযোগ করেছেন, তাদের প্রিয় শিল্পীদের অ্যাকাউন্ট থেকেও বিপুল সংখ্যক ফলোয়ার কমে গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বড় তারকাদের অ্যাকাউন্টে তুলনামূলক বেশি ভুয়া ও স্প্যাম অ্যাকাউন্ট যুক্ত থাকে। ফলে মেটার এই অভিযানে তাদের ফলোয়ার সংখ্যায় বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা গেছে। অন্যদিকে ছোট কনটেন্ট নির্মাতা ও ইনফ্লুয়েন্সারদের ক্ষেত্রেও ২ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত ফলোয়ার কমে যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
তবে কিছু ব্যবহারকারী দাবি করছেন, শুধুমাত্র ভুয়া অ্যাকাউন্ট নয়—কিছু বৈধ অ্যাকাউন্টও ভুলবশত মুছে ফেলা বা সীমাবদ্ধ করা হয়েছে। বিশেষ করে থ্রেডস ব্যবহারকারীদের একটি অংশ জানিয়েছেন, তাদের অ্যাকাউন্ট হঠাৎ সীমাবদ্ধ করা হয়েছে কিংবা সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
সামাজিক মাধ্যমে এ নিয়ে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো বড় তারকা প্রকাশ্যে এ বিষয়ে মন্তব্য করেননি। তবে প্রযুক্তিবিষয়ক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে ইনস্টাগ্রামকে আরও নিরাপদ ও স্বচ্ছ রাখতে মেটা এ ধরনের অভিযান চালিয়ে যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া অ্যাকাউন্ট ও বটের সংখ্যা কমানো হলে প্রকৃত ব্যবহারকারীদের সম্পৃক্ততা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়বে। তবে একই সঙ্গে বৈধ অ্যাকাউন্ট যেন ভুলভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে।