
ইসলামি বর্ণনা অনুযায়ী কেয়ামতের আগে দুনিয়ায় এমন কিছু বড় ঘটনা ঘটবে, যা মানবজাতির জন্য কঠিন পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াবে। এর মধ্যে অন্যতম হলো দাজ্জালের আবির্ভাব।
হাদিসে বর্ণিত, সাহাবি Abdullah ibn Amr ibn al-As (রা.) থেকে জানা যায়, Muhammad (সা.) বলেছেন—দাজ্জাল তার উম্মতের মধ্যে আবির্ভূত হবে এবং একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অবস্থান করবে। তবে সেই সময়কাল চল্লিশ দিন, মাস না বছর—তা স্পষ্টভাবে নির্ধারিত নয়।
এরপর আল্লাহ তাআলা Isa ibn Maryam (আ.)-কে পৃথিবীতে প্রেরণ করবেন। তিনি দাজ্জালকে খুঁজে বের করে হত্যা করবেন এবং পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে।
হাদিস অনুযায়ী, এরপর সাত বছর মানুষ শান্তিতে বসবাস করবে। মানুষের মধ্যে কোনো শত্রুতা থাকবে না। কিন্তু এই সময়ের পর আল্লাহ তাআলা সিরিয়া বা শাম অঞ্চলের দিক থেকে একটি নির্মল বাতাস পাঠাবেন, যা ঈমানদারদের রূহ কবজ করে নেবে। ফলে পৃথিবীতে শুধু খারাপ লোকেরাই বেঁচে থাকবে।
তাদের আচরণ হবে হিংস্র পশুর মতো। তারা ভালো-মন্দের পার্থক্য বুঝবে না। তখন শয়তান মানুষের আকৃতিতে এসে তাদের মূর্তিপূজার দিকে আহ্বান করবে এবং তারা সেই পথেই চলবে।
এরপর কেয়ামতের সূচনা হবে শিঙায় ফুঁক দেওয়ার মাধ্যমে। প্রথমে সবাই অজ্ঞান হয়ে যাবে। পরে আল্লাহ তাআলা আবার তাদের জীবিত করবেন এবং হিসাব-নিকাশের জন্য একত্রিত করবেন।
হাদিসে আরও বলা হয়েছে, সেদিন মানুষের অবস্থা এত কঠিন হবে যে, তা একজন কিশোরকেও বৃদ্ধে পরিণত করবে। প্রত্যেক হাজার মানুষের মধ্যে ৯৯৯ জন জাহান্নামে যাবে—এমন ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
এই বর্ণনাগুলো পাওয়া যায় Sahih Muslim (হাদিস: ৭৩৮১) এবং Musnad Ahmad-এ।
ইসলামি শিক্ষায় এসব বর্ণনার মাধ্যমে মানুষকে সতর্ক করা হয়েছে, যেন তারা ঈমান, নেক আমল এবং আল্লাহর আনুগত্যে অটল থাকে।