
দেশের চলচ্চিত্র শিল্পকে আধুনিক ও স্বচ্ছ ব্যবস্থার আওতায় আনতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে দেশের সব সিনেমা হলকে কেন্দ্রীয় সার্ভারের সঙ্গে যুক্ত করে ই-টিকিটিং ও বক্স অফিস ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রায় ৫০ কোটি টাকার একটি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরি করছে Bangladesh Film Development Corporation। সংস্থাটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকারের ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার পরই প্রকল্পটির কাজ এগিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এফডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুমা তানি জানান, বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে আলোচনা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকেও ইতিবাচক মনোভাব পাওয়া গেছে।
তিনি বলেন, সিনেমা শিল্পকে ডিজিটালাইজ করার মাধ্যমে টিকিট বিক্রিতে স্বচ্ছতা আনা এবং রাজস্ব ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করা সম্ভব হবে।
মন্ত্রণালয়ের সূত্র অনুযায়ী, ই-টিকিটিং ও বক্স অফিস চালুর বিষয়টি একাধিক বৈঠকে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়েছে। এরপরই এফডিসিকে পূর্ণাঙ্গ ডিপিপি তৈরি করে জমা দিতে বলা হয়।
গত প্রায় ২০ দিন ধরে এই প্রস্তাব তৈরির কাজ চলছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আসন্ন ঈদের আগেই ডিপিপিটি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন অনুবিভাগে জমা দেওয়া হবে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রাথমিক পর্যায়ে সিনেমা হল মালিক সমিতি, প্রযোজক সমিতি, পরিচালক সমিতি এবং বিভিন্ন স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করা হয়েছে। প্রায় সবাই এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখেছেন।
এফডিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কেন্দ্রীয় সার্ভারের মাধ্যমে প্রতিটি সিনেমা হলের টিকিট বিক্রি রিয়েল-টাইমে মনিটর করা যাবে। এতে টিকিট কালোবাজারি, আয়ের গোপনীয়তা এবং হিসাব জটিলতা অনেকটাই কমে আসবে।
এ বিষয়ে সংস্থার কর্মকর্তারা আরও জানান, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের চলচ্চিত্র শিল্পে একটি ডিজিটাল কাঠামো তৈরি হবে, যা ভবিষ্যতে অনলাইন টিকিটিং ও স্মার্ট বক্স অফিস ব্যবস্থার ভিত্তি তৈরি করবে।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, ডিপিপি জমা দেওয়ার পর এটি মন্ত্রণালয়ের সভায় উপস্থাপন করা হবে। পরে অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হবে।
অনুমোদন মিললে প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু করবে Bangladesh Film Development Corporation। এর মাধ্যমে দেশের চলচ্চিত্র প্রদর্শন ব্যবস্থায় বড় ধরনের ডিজিটাল পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে ঢালিউডে স্বচ্ছতা, আস্থা ও আয় ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের উন্নয়ন ঘটবে এবং দর্শকদের জন্যও টিকিটিং প্রক্রিয়া হবে আরও সহজ ও আধুনিক।