
দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলায় বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) গভীর নলকূপ পরিচালনা ও পাম্প অপারেটর নিয়োগকে কেন্দ্র করে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে।
স্থানীয় ভুক্তভোগী ও কৃষকদের অভিযোগ, প্রতি বছর নিয়োগ পরীক্ষার নামে আনুষ্ঠানিকতা পালন করা হলেও বাস্তবে নতুনদের সুযোগ দেওয়া হয় না। আবেদনকারীদের কাছ থেকে ব্যাংক ড্রাফটের মাধ্যমে টাকা নেওয়া হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে পুরোনো কিংবা পছন্দের ব্যক্তিদেরই পুনরায় নিয়োগ দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী কামরুজ্জামান জানান, ২০১১ সালে পূর্ব জয়দেবপুর এলাকায় বরেন্দ্র প্রকল্পের জন্য নির্ধারিত অর্থ জমা দেন তিনি। পরে ২০১৫ সালে প্রকল্প চালু হলে নিয়মিতভাবে পাম্প অপারেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর ১০০ টাকা জমা দিয়ে তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে ২০২৫ সালে তাকে পাম্প অপারেটর পদে বহাল রাখতে ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর পর হঠাৎ করে জানানো হয়, এবার পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হবে। পরে তিনি ও তার মেয়ে ২০০ টাকা করে ব্যাংক ড্রাফটের মাধ্যমে আবেদন করেন এবং পরীক্ষায় অংশ নেন।
কামরুজ্জামানের অভিযোগ, শেষ পর্যন্ত যাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে তিনি পরীক্ষায় অংশই নেননি।
তিনি বলেন, “আমরা পরীক্ষার হলে উপস্থিত ছিলাম। কিন্তু যিনি পরে নিয়োগ পেয়েছেন, তাকে পরীক্ষাকেন্দ্রে দেখিনি। তারপরও তাকেই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।”
স্থানীয় কৃষকদের মধ্যেও এ নিয়ে ক্ষোভ দেখা গেছে। মশিপুর গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য মফিদুল ইসলাম বলেন, “আমাদের মতো সাধারণ কৃষকরা এখন বরেন্দ্র অফিসের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে। কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে উল্টো হয়রানি করা হচ্ছে।”
তিনি আরো বলেন, “এ ধরনের কর্মকর্তা থাকলে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হতেই থাকবে।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে বিএমডিএ নবাবগঞ্জ উপজেলার সহকারী প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
স্থানীয়দের দাবি, নিয়োগ প্রক্রিয়া ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক, যাতে ভবিষ্যতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয় এবং প্রকৃত যোগ্য ব্যক্তিরা সুযোগ পান।