
দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার মান উন্নয়নে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। চলতি বছরের জুলাই মাসের মধ্যেই শিক্ষার্থীদের বাংলা ও ইংরেজি সাবলীলভাবে পড়তে পারা এবং গণিতের মৌলিক চারটি নিয়মে দক্ষতা অর্জন নিশ্চিত করতে নির্দেশনা দিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এই লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি বেতন-ভাতা বন্ধেরও সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেন সম্প্রতি দেশের সব জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে এ নির্দেশনা দেন। বৈঠকে তিনি বিশেষভাবে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বাংলা, ইংরেজি ও গণিত শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিদিন শিক্ষার্থীদের বাংলা ও ইংরেজি বই থেকে অন্তত পাঁচ পৃষ্ঠা জোরে জোরে পড়ানোর ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে গণিতের যোগ, বিয়োগ, গুণ ও ভাগ শেখানোর জন্য আলাদা গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে। শিক্ষা কর্মকর্তারা বলছেন, শিক্ষার্থীদের মৌলিক দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সরকারের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, আগামী জুন মাসের মধ্যে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বাংলা রিডিংয়ে, চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের গণিতের চার নিয়মে এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ইংরেজি রিডিংয়ে অন্তত ৯০ শতাংশ দক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে। এরপর জুলাইয়ের মধ্যে তা শতভাগে উন্নীত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ লক্ষ্যে প্রতিটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের আলাদা পরিকল্পনা তৈরি করতে বলা হয়েছে। সেই পরিকল্পনা আগামী ১০ মের মধ্যে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে জমা দেওয়ারও নির্দেশ রয়েছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাঙ্ক্ষিত দক্ষতা অর্জন নিশ্চিত করা না গেলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এর মধ্যে বেতন-ভাতা বন্ধের বিষয়টিও উল্লেখ রয়েছে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরেই প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের রিডিং ও গণিত দক্ষতা নিয়ে উদ্বেগ ছিল। অনেক শিক্ষার্থী শ্রেণি অনুযায়ী পড়া ও গণিতের মৌলিক দক্ষতায় পিছিয়ে রয়েছে। তাই এবার সরকার সরাসরি শিক্ষকদের জবাবদিহির আওতায় আনতে চাইছে।
ঠাকুরগাঁও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোফাজ্জল হোসেন জানিয়েছেন, সচিবের নির্দেশনা অনুযায়ী ইতোমধ্যে বিদ্যালয়গুলোতে চিঠি পাঠানো হয়েছে। অন্যান্য জেলাতেও একই ধরনের নির্দেশনা বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীরা যেন বাংলা ও ইংরেজি ঠিকভাবে পড়তে পারে এবং গণিতের মৌলিক ধারণাগুলো আয়ত্ত করতে পারে, সেটাই সরকারের মূল লক্ষ্য। এজন্য মাঠপর্যায়ে নিবিড় তদারকি চালানো হবে।
সরকারের এই উদ্যোগকে অনেকেই ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তবে শিক্ষকদের একটি অংশ মনে করছেন, শুধু চাপ প্রয়োগ না করে বিদ্যালয়ে প্রয়োজনীয় শিক্ষাসামগ্রী, প্রশিক্ষণ ও পর্যাপ্ত শিক্ষক নিশ্চিত করাও জরুরি। অন্যথায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শতভাগ দক্ষতা অর্জন কঠিন হতে পারে।