প্রিন্ট এর তারিখঃ May 10, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ May 8, 2026 ইং
আকুকে ১৫১ কোটি ডলার পরিশোধ, ৩৪ বিলিয়নের নিচে নামল রিজার্ভ

এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) মার্চ ও এপ্রিল মাসের আমদানি বিল পরিশোধ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই খাতে মোট ১৫১ কোটি মার্কিন ডলার পরিশোধের পর দেশের বৈদেশিক মুদ্রার গ্রোস রিজার্ভ আবারও ৩৪ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে এসেছে।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, সদস্য দেশগুলোর পারস্পরিক আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের দায় সাধারণত প্রতি দুই মাস অন্তর আকুর মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ৬ মে পর্যন্ত দেশের গ্রোস রিজার্ভ ছিল ৩৫ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। একই সময়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ হিসাব পদ্ধতিতে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩০ দশমিক ৬৭ বিলিয়ন ডলার।
তবে আকুকে ১৫১ কোটি ডলার পরিশোধের পর গ্রোস রিজার্ভ কমে দাঁড়িয়েছে ৩৩ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলারে। অন্যদিকে বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভ নেমে এসেছে প্রায় ২৯ দশমিক ১২ বিলিয়ন ডলারে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রিজার্ভ কিছুটা কমলেও তা নিয়ে তাৎক্ষণিক উদ্বেগের কারণ নেই। বর্তমানে দেশের ব্যয়যোগ্য নিট আন্তর্জাতিক রিজার্ভ বা এনআইআর প্রায় ২৭ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি রয়েছে।
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় সাড়ে ৫ বিলিয়ন ডলারের আমদানি ব্যয় হয়। সেই হিসাবে বর্তমান মজুত দিয়ে প্রায় পাঁচ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে অন্তত তিন মাসের আমদানি ব্যয় সমপরিমাণ রিজার্ভকে নিরাপদ ধরা হয়। সে তুলনায় বাংলাদেশ এখনো তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক অবস্থানে রয়েছে।
আকু মূলত সদস্য দেশগুলোর মধ্যে আন্তঃদেশীয় বাণিজ্যিক লেনদেন নিষ্পত্তির একটি আঞ্চলিক ব্যবস্থা। এর সদর দপ্তর ইরানের তেহরানে অবস্থিত। বাংলাদেশ, ভারত, ভুটান, ইরান ও মিয়ানমারসহ মোট ৯টি দেশ এই ব্যবস্থার সদস্য। তবে অর্থনৈতিক সংকটের কারণে শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় বর্তমানে শ্রীলঙ্কার সদস্যপদ সাময়িকভাবে স্থগিত রয়েছে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ দ্যা ডেইলি কসমিক পোষ্ট । বাংলা