
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব আল্লামা শায়েখ সাজিদুর রহমান দ্বিতীয়বারের মতো বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার ভাদুঘর গ্রামে পারিবারিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। ৬২ বছর বয়সী এই প্রবীণ আলেমের দ্বিতীয় বিয়ের খবরটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, অত্যন্ত সীমিত পরিসরে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে দুই পরিবারের ঘনিষ্ঠ স্বজন এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কয়েকজন বিশিষ্ট আলেম উপস্থিত ছিলেন। কনে আমাতুর রহমান একই এলাকার বাসিন্দা মাওলানা মাকবুল হাসানের মেয়ে। পরিবারের সদস্যদের তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ বোনের মধ্যে আমাতুর রহমান সবার বড়।
আমাতুর রহমানের ছোট ভাই হিজবুল্লাহ মাকবুল সংবাদমাধ্যমকে বিয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পারিবারিক ও ধর্মীয় রীতি অনুসরণ করেই বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। জানা গেছে, এটি আমাতুর রহমানেরও দ্বিতীয় বিয়ে। কয়েক মাস আগে তার প্রথম স্বামী মারা যান। আগের সংসারে তার এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।
অন্যদিকে আল্লামা সাজিদুর রহমানের প্রথম স্ত্রী গত ৩০ মার্চ রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর পর চার ছেলে ও দুই মেয়ের দায়িত্ব এবং ব্যক্তিগত প্রয়োজন বিবেচনায় তিনি নতুন করে সংসার শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন। প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর মাত্র পাঁচ সপ্তাহের মধ্যেই এই বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।
স্থানীয়ভাবে প্রবীণ এই আলেমের দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে নানা আলোচনা দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকজন ইসলামি বক্তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আলোচনার প্রেক্ষাপটে এই খবর নতুন করে মানুষের নজর কাড়ে।
সম্প্রতি তরুণ ইসলামি বক্তা রফিকুল ইসলাম মাদানির দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি নিয়েও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই হেফাজতে ইসলামের মহাসচিবের দ্বিতীয় বিয়ের খবর সামনে আসে।
আল্লামা সাজিদুর রহমান বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জামিয়া দারুল আরকাম আল ইসলামিয়ার প্রিন্সিপাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসার শায়খুল হাদিস হিসেবেও দায়িত্বে রয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি দেশের ইসলামি শিক্ষা ও ধর্মীয় অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন।
তার নতুন দাম্পত্য জীবন নিয়ে পরিবার ও ঘনিষ্ঠজনরা শুভকামনা জানিয়েছেন। স্থানীয় ধর্মীয় মহলেও বিষয়টি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেলেও অধিকাংশই এটিকে ব্যক্তিগত ও ধর্মীয়ভাবে বৈধ সিদ্ধান্ত হিসেবেই দেখছেন।