
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে এখনো স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে আসেনি। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক খাত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, প্রণালির আশপাশে প্রায় ১ হাজার ৬০০ বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাংকার দীর্ঘ সময় ধরে আটকে রয়েছে।
বিশ্ব জ্বালানি ও পণ্য পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ জলপথে টানা অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বড় ধরনের আর্থিক চাপের মুখে পড়েছে। কয়েক সপ্তাহ ধরে নোঙর করে থাকা জাহাজগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বাড়ছে, একই সঙ্গে কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে ঝুঁকি নিয়ে জাহাজ চলাচল শুরু করলে তা পণ্য পরিবহন ও নাবিকদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। এ কারণে অনেক কোম্পানি নতুন নির্দেশনা বা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া বিভিন্ন দেশের জাহাজকে নিরাপত্তা সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেন। ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে পরিচিত ওই কার্যক্রম ৪৮ ঘণ্টা চালু ছিল। তবে উদ্যোগটির আওতায় মাত্র দুটি জাহাজ নিরাপদে প্রণালি অতিক্রম করতে সক্ষম হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে চলমান অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন চাপ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে তেল রপ্তানিনির্ভর দেশগুলোর অর্থনীতিতে এর প্রভাব আরও স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে।