
ভারতের তামিলনাড়ু রাজনীতিতে সরকার গঠনকে ঘিরে নতুন নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনে সর্বোচ্চ আসন পেলেও একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি অভিনেতা ‘থালাপতি’ বিজয়ের দল তামিলাগা ভেট্রি কালাগাম (টিভিকে)। ফলে সরকার গঠনের জন্য এখন জোট-সমীকরণের দিকে নজর রয়েছে সবার।
এই পরিস্থিতিতে তামিল রাজনীতির দুই দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী দল ডিএমকে ও এআইএডিএমকের মধ্যে নেপথ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে বলে ভারতীয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়েছে। সূত্রের বরাতে বলা হচ্ছে, বিজয়ের নেতৃত্বে সরকার গঠন ঠেকাতে বিকল্প রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরির চেষ্টা চলছে।
বিভিন্ন সূত্রের দাবি, এআইএডিএমকেকে সরকার গঠনের সুযোগ করে দিতে বাইরে থেকে সমর্থন দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে ডিএমকের সঙ্গে আলোচনা চলছে। পাশাপাশি ছোট দলগুলোর সমর্থন নিশ্চিত করার প্রচেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে। যদিও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো পক্ষ এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানায়নি।
নির্বাচনের ফল অনুযায়ী, ডিএমকে পেয়েছে ৫৯টি এবং এআইএডিএমকে ৪৭টি আসন। দুই দলের মোট আসন দাঁড়ায় ১০৬, যেখানে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১১৮ সদস্যের সমর্থন। ফলে ছোট দলগুলোর সমর্থন ছাড়া কোনো বিকল্প জোটের পক্ষে সরকার গঠন সম্ভব নয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, কংগ্রেসের পক্ষ থেকে টিভিকেকে সমর্থন দেওয়ার ঘোষণার পর থেকেই পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যেতে শুরু করে। প্রথমদিকে ধারণা করা হয়েছিল, কংগ্রেসের সমর্থন বিজয়ের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পথ সহজ করবে। কিন্তু পরে দেখা যায়, এই জোটের কারণে অন্যান্য সম্ভাব্য শরিকদের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হচ্ছে।
বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের একাধিক শরিক দলের সূত্র জানিয়েছে, কংগ্রেস-সমর্থিত টিভিকে সরকার গঠনে সহায়তা না করার বার্তা আগে থেকেই দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে কংগ্রেসের এই অবস্থানে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ডিএমকের একাংশ। দলটির নেতাদের অভিযোগ, কংগ্রেস নেতৃত্ব একদিকে সমর্থনের আশ্বাস দিলেও পরে বিজয়ের দলকে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন জানিয়েছে।
তামিল রাজনীতিতে ডিএমকে ও এআইএডিএমকের বৈরিতার ইতিহাস কয়েক দশকের পুরোনো। ১৯৭২ সালে এম জি রামচন্দ্রনকে ডিএমকে থেকে বহিষ্কারের পর গড়ে ওঠে এআইএডিএমকে। এরপর থেকেই দুই দলের মধ্যে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা তামিলনাড়ুর রাজনীতির মূল বৈশিষ্ট্যে পরিণত হয়। ফলে বর্তমান সমঝোতার আলোচনা রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে।
এদিকে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে এআইএডিএমকের প্রায় ৫০ জন বিধায়ককে পুদুচেরির একটি রিসোর্টে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে, বিজয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণে ব্যর্থ হলে বিকল্প সরকার গঠনের উদ্যোগ নিতে পারে প্রতিদ্বন্দ্বী শিবিরগুলো।
তবে দুই দ্রাবিড় দলের একাংশের দাবি, তারা জনরায়ের বিরোধিতা করছেন না। বরং সাংবিধানিক প্রক্রিয়া মেনে সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ নিশ্চিত করার পক্ষেই অবস্থান নিচ্ছেন।