
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর শিলাইদহ কুঠিবাড়িতে জাতীয় পর্যায়ে তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। আগামী ৮, ৯ ও ১০ মে এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর। বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন তথ্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পলিসি ও স্ট্রাটেজি বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত ডা. জাহেদ উর রহমান।
তবে অনুষ্ঠানকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে দাওয়াতপত্রে জামায়াতের দুই সংসদ সদস্যের নাম না থাকাকে কেন্দ্র করে। নাম না থাকা দুই এমপি হলেন কুষ্টিয়া সদর আসনের মুফতি আমির হামজা এবং কুষ্টিয়া-৪ আসনের মো. আফজাল হোসেন।
জানা গেছে, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলার স্বাক্ষরিত একটি দাওয়াতপত্র জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে বিতরণ করা হয়। একইসঙ্গে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও অনুষ্ঠানসূচি সংবলিত আরেকটি দাওয়াতপত্র ছাপানো হয়। তবে কোনো দাওয়াতপত্রেই ওই দুই এমপির নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জামায়াত নেতাকর্মীরা। কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. সুজা উদ্দিন বলেন, স্থানীয় ও সদর আসনের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের এ ধরনের রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো প্রচলিত রীতি। তাদের বাদ দেওয়াকে শুধু দুই এমপির নয়, সংশ্লিষ্ট এলাকার ভোটারদের প্রতিও অসম্মান হিসেবে দেখছেন তারা।
এদিকে কুষ্টিয়া-৪ আসনের এমপি মো. আফজাল হোসেন বিষয়টিকে “অন্যায় ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, তার নির্বাচনী এলাকার শিলাইদহ কুঠিবাড়িতে অনুষ্ঠান হলেও তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। আগামী জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বিষয়টি উত্থাপন করার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
দাওয়াতপত্র প্রকাশের আগে তার সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ করা হয়নি বলেও দাবি করেন এমপি আফজাল হোসেন। অন্যদিকে মুফতি আমির হামজার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন-হাসান ঢাকায় অবস্থান করায় তার প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি। তবে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক আহমেদ মাহবুব-উল-ইসলাম জানিয়েছেন, মূল দাওয়াতপত্র সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় থেকে ছাপানো হয়েছে এবং সেটির অনুসরণেই জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরেকটি আমন্ত্রণপত্র প্রকাশ করা হয়েছে।