
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর আসনে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজয়ের পরও মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়তে রাজি নন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বরং তাকে বরখাস্ত করা হোক—এমন মন্তব্য করে নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন তিনি।
পরাজয়ের পর দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করবেন না। তার ভাষায়, “রাষ্ট্রপতি শাসন হলে হোক। রেকর্ড থাকুক। ওরা আমাকে বরখাস্ত করুক। আমি চাই, সেই দিনটি একটি কালো দিন হোক।”
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ভবানীপুর আসনে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ১৫ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন মমতা। ফল প্রকাশের পর তিনি নির্বাচনকালীন নানা অনিয়ম ও প্রশাসনিক আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
মমতা অভিযোগ করেন, নির্বাচনের সময় তাকে এবং দলের নেতা ফিরহাদ হাকিমকে হেনস্তা করা হয়েছে। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ভূমিকাও সমালোচনা করেন তিনি। তার বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নাম উল্লেখ করে পরিস্থিতির জন্য তাদের দায়ী করার অভিযোগও উঠে আসে।
রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর কোনো ইঙ্গিত না দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ভবিষ্যতে তিনি আবার আইন পেশায় ফিরতে পারেন। তার সঙ্গে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, বিপ্লব মিত্র ও বিমান ব্যানার্জিও আদালতে প্র্যাকটিস করবেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এদিকে, মুখ্যমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক পদত্যাগ না করায় পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ৯ মে বিজেপি নেতৃত্বাধীন নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।
ভারতের সাংবিধানিক রীতি অনুযায়ী, নির্বাচনে পরাজয়ের পর বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী সাধারণত রাজ্যপালের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন এবং নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়া পর্যন্ত কেয়ারটেকার সরকারের দায়িত্ব পালন করেন। তবে এখন পর্যন্ত সে ধরনের কোনো পদক্ষেপ নেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সংবিধানের ১৭২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন সরকার গঠন বিলম্বিত হলে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির সাংবিধানিক প্রশ্ন সামনে আসতে পারে।