
দেশের ওয়াকফ সম্পত্তিতে অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে নামমাত্র ভাড়া আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ধর্মমন্ত্রী Shah Moazzem Hossain Kaikobad। তিনি জানিয়েছেন, বাজারদর অনুযায়ী এসব সম্পত্তির ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করা হবে।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী বলেন, সারা দেশে প্রায় ৬ লাখ ১৪ হাজার একর ওয়াকফ সম্পত্তি রয়েছে, যার বড় একটি অংশ বর্তমানে বেহাল অবস্থায় রয়েছে। প্রশাসনিক দুর্বলতা, দুর্নীতি ও অদক্ষতাকে এর জন্য দায়ী করেন তিনি।
মন্ত্রী জানান, ওয়াকফে আওলাদের আওতায় রয়েছে প্রায় ২ লাখ ১২ হাজার একরের বেশি জমি এবং ওয়াকফে লিল্লাতের আওতায় রয়েছে প্রায় ৩ লাখ ৭৭ হাজার একর জমি। এত বিশাল সম্পদের যথাযথ ব্যবস্থাপনা না হওয়ায় রাষ্ট্র ও জনকল্যাণ উভয় ক্ষেত্রেই ক্ষতি হচ্ছে।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অনিয়মের কারণে ওয়াকফ সম্পত্তির প্রকৃত আয় রাষ্ট্র পাচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে বাজারদরের তুলনায় অতি কম ভাড়ায় এসব সম্পত্তি ভাড়া দেওয়া হয়েছে, যা এক ধরনের লুটপাটের শামিল।
ধর্মমন্ত্রী আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ওয়াকফ সম্পত্তি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে। দানকারীরা যে উদ্দেশ্যে সম্পত্তি ওয়াকফ করেছেন, তা যথাযথভাবে বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে।
উদাহরণ হিসেবে তিনি রাজধানীর Gausia Market-এর কথা উল্লেখ করে বলেন, সেখানে ৫৮৮টি দোকানের ভাড়া অত্যন্ত কম—মাসে মাত্র ১১২ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২ হাজার ২১৮ টাকা পর্যন্ত, যা বর্তমান বাজারদরের তুলনায় অনেক কম।
অন্যদিকে Chawkbazar Mosque এলাকায় একটি দোকানের ভাড়া কমিটি পরিবর্তনের পর ৩৫ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ২ লাখ ৫২ হাজার টাকায় উন্নীত হয়েছে, যা বাস্তব বাজারদরের প্রতিফলন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
মন্ত্রী জানান, ইতোমধ্যে ওয়াকফ প্রশাসনের পক্ষ থেকে বৈঠক করা হয়েছে, যাতে বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভাড়া নির্ধারণ করা যায়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী তিন মাসের মধ্যে এ বিষয়ে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাবে।
এ ছাড়া সিন্ডিকেট ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে প্রয়োজনে নতুন আইন প্রণয়ন করা হবে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি বেদখল হওয়া ওয়াকফ সম্পত্তি পুনরুদ্ধারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে, ওয়াকফ সম্পত্তির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করে জনকল্যাণমূলক কাজে এর ব্যবহার বাড়াতে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরেছেন ধর্মমন্ত্রী।