
দীর্ঘ সময় স্থবির থাকার পর আবারও সচল হওয়ার পথে Teknaf Land Port কেন্দ্রিক বাংলাদেশ–মিয়ানমার সীমান্ত বাণিজ্য। প্রায় এক বছর বন্ধ থাকার পর বৃহস্পতিবার (৭ মে) টেকনাফ থেকে মিয়ানমারের উদ্দেশে ৬৫ মেট্রিক টন আলু রপ্তানির মাধ্যমে বাণিজ্য কার্যক্রম নতুন করে শুরু হয়েছে।
বন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে আলুভর্তি একটি কাঠের নৌযান টেকনাফ স্থলবন্দর ত্যাগ করে মিয়ানমারের উদ্দেশে যাত্রা করে। সীমান্ত বাণিজ্য বন্ধ থাকার পর এটিই বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারে প্রথম নিত্যপণ্য রপ্তানির ঘটনা।
এ ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও আমদানি-রপ্তানিকারকদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বাণিজ্য বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিলেন। একই সঙ্গে বন্দরের কার্যক্রমও প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছিল।
এর আগে গত ১ এপ্রিল মিয়ানমারের মংডু এলাকা থেকে একই ধরনের নৌযানে করে টেকনাফ বন্দরে ৯৬৩ পিস চম্পাফুল ও গর্জন কাঠ আমদানি করা হয়েছিল। সংশ্লিষ্টরা তখনই ধারণা করেছিলেন যে সীমিত পরিসরে হলেও দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত বাণিজ্য আবার চালু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
স্থলবন্দরের শুল্ক বিভাগ জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সিএন্ডএফ এজেন্টের মাধ্যমে আলুর চালানটি রপ্তানি করা হয়েছে। দীর্ঘদিন পর বন্দরের কার্যক্রমে গতি ফিরে আসায় ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টরা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।
বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা জানান, রপ্তানির জন্য প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে পণ্যবাহী নৌযানটি মিয়ানমারের পথে যাত্রা করেছে। তারা আশা করছেন, ধীরে ধীরে সীমান্ত বাণিজ্য পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে।
আমদানি-রপ্তানিকারকরা বলছেন, সরকারের সহযোগিতায় বাণিজ্য পুনরায় শুরু হলেও এখনো কিছু জটিলতা রয়ে গেছে। বিশেষ করে ব্যাংকিং কার্যক্রম ও লেনদেন সংক্রান্ত সমস্যার দ্রুত সমাধান প্রয়োজন বলে তারা মনে করছেন। তাদের মতে, এসব সমস্যা সমাধান হলে সীমান্ত বাণিজ্য আরও গতিশীল হবে।
উল্লেখ্য, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত এলাকার নিয়ন্ত্রণ পরিস্থিতিতে পরিবর্তন আসে। একই সঙ্গে নাফ নদীর মিয়ানমার অংশে নৌযান চলাচলে নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়। এর প্রভাব পড়ে টেকনাফ স্থলবন্দর কেন্দ্রিক বাণিজ্যে।
পরিস্থিতির অবনতির কারণে গত বছরের এপ্রিল থেকে কার্যত সীমান্ত বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যায়। এতে দুই দেশের ব্যবসায়ীরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েন। পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আয়েও বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দেয়।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, সীমান্ত বাণিজ্য আবার চালু হওয়ায় অর্থনৈতিক কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিশেষ করে টেকনাফ এলাকার ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা এতে উপকৃত হবেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যকার সীমান্ত বাণিজ্য শুধু স্থানীয় অর্থনীতির জন্য নয়, আঞ্চলিক বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। তাই নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক সমন্বয় নিশ্চিত করে এই বাণিজ্যকে টেকসইভাবে চালু রাখা প্রয়োজন।
সব মিলিয়ে, প্রায় এক বছর পর টেকনাফ-মিয়ানমার সীমান্ত বাণিজ্যে আবারও কার্যক্রম শুরু হওয়াকে সংশ্লিষ্টরা ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন। এখন ব্যাংকিং ও পরিবহনসংক্রান্ত জটিলতা কাটিয়ে পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্য কার্যক্রম চালু হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন ব্যবসায়ীরা।