
নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। তারা বলেছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কোভিড-১৯, জলবায়ু পরিবর্তন, বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবে নারীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ফলে তাদের আয়মূলক কাজে সম্পৃক্ত করতে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) Bangladesh Nari Progati Sangha (বিএনপিএস)-এর ঢাকা পূর্ব কেন্দ্র মিলনায়তনে আয়োজিত এক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
‘কোভিড-১৯, জলবায়ু পরিবর্তন, যুদ্ধ এবং দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত নারী দলসদস্যদের আয়মূলক কাজ পুনরায় শুরু করার জন্য ব্যবসা বিষয়ক দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতা’ শীর্ষক এই কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপিএসের ঢাকা পূর্ব কেন্দ্র ব্যবস্থাপক শেলীনা পারভীন।
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে শুধু আর্থিক সহায়তা দিলেই হবে না, বরং তাদের বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণ, ব্যবসা পরিচালনার জ্ঞান এবং দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। তারা মনে করেন, নারীদের ছোট ছোট আয়মূলক কর্মকাণ্ডও পরিবার ও সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন নারী নেত্রী Syeda Shamima Sultana, প্রশিক্ষক ও উদ্যোক্তা Ismat Ara Joly, সাংবাদিক Alamgir Parvez, নাগরিক প্রতিনিধি মো. রাসেল এবং অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক খালেদা খানম।
প্রশিক্ষক ও উদ্যোক্তা ইসমত আরা জলি কর্মশালায় নারীর ক্ষমতায়নের গুরুত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি বলেন, নারীদের আয়মূলক কাজে সম্পৃক্ততা তাদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করে এবং পরিবার ও সমাজে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা বাড়ায়।
তিনি অংশগ্রহণকারীদের ব্যবসা পরিচালনার বিভিন্ন কৌশল সম্পর্কে ধারণা দেন। এর মধ্যে ছিল ব্যবসার ধরন নির্বাচন, আয়-ব্যয়ের হিসাব রাখা, লাভ-ক্ষতি নির্ধারণ, ঝুঁকি মোকাবেলার উপায় এবং ছোট পরিসরে ব্যবসা পরিচালনার পরিকল্পনা তৈরির পদ্ধতি।
বক্তারা আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির মতো বৈশ্বিক সংকটের প্রভাব নারীদের জীবনে সরাসরি পড়েছে। বিশেষ করে নিম্নআয়ের নারীরা কর্মসংস্থান হারানো, আয় কমে যাওয়া এবং পারিবারিক চাপ বৃদ্ধির মতো সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন। তাই তাদের পুনর্বাসনে কার্যকর ও টেকসই উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
কর্মশালার শেষে অংশগ্রহণকারী নারী দলসদস্যদের আয়মূলক কাজ পুনরায় শুরু করার জন্য সংস্থার পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের দ্রব্যসামগ্রী অনুদান হিসেবে বিতরণ করা হয়। প্রশিক্ষণার্থীরা এই সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং প্রাপ্ত সামগ্রীকে পুঁজি হিসেবে ব্যবহার করে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
অংশগ্রহণকারী নারীরা আশা প্রকাশ করেন, এই ধরনের সহযোগিতা তাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে সহায়তা করবে এবং সমাজে স্বাধীনভাবে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার শক্তি জোগাবে।
সব মিলিয়ে কর্মশালায় বক্তারা নারীদের ক্ষমতায়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং বাস্তবভিত্তিক সহায়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাদের মতে, নারীর অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পেলে পরিবার, সমাজ ও দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে।