
যুক্তরাজ্যের Birmingham-এ বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনের কার্যালয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার অনুষ্ঠিত এই সভায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণ, কনস্যুলার সেবার উন্নয়ন এবং পারস্পরিক সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সভায় সহকারী হাইকমিশনার সুজন দেবনাথের সঙ্গে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মিডল্যান্ড ইউকের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন। আলোচনায় প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন প্রত্যাশা, সেবা গ্রহণে ভোগান্তি এবং কনস্যুলার কার্যক্রম আরও সহজ ও আধুনিক করার বিষয় উঠে আসে।
জামায়াত নেতারা বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য দ্রুত, কার্যকর এবং ঝামেলামুক্ত সেবা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। তারা বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করেন যেন সাধারণ প্রবাসীরা কোনো ধরনের হয়রানি বা দীর্ঘসূত্রতা ছাড়াই প্রয়োজনীয় কনস্যুলার সেবা গ্রহণ করতে পারেন।
নেতৃবৃন্দ আরও জানান, প্রবাসীদের কল্যাণে এবং বিভিন্ন জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মিডল্যান্ড ইউকের পক্ষ থেকে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। তারা হাইকমিশনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগে কাজ করার আশ্বাস দেন।
সহকারী হাইকমিশনার সুজন দেবনাথ তার বক্তব্যে বলেন, প্রবাসীদের দোরগোড়ায় সময়োপযোগী ও কার্যকর সেবা পৌঁছে দিতে ইতোমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি জানান, বার্মিংহামের আশপাশের বিভিন্ন শহরে মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হচ্ছে, যাতে প্রবাসীদের সমস্যা ও মতামত সরাসরি জানা যায়।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান অফিসের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে নতুন ও প্রশস্ত অফিস স্পেস খোঁজা হচ্ছে। এর মাধ্যমে আরও দ্রুত এবং মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সভায় অনলাইন ও অফলাইন উভয় মাধ্যমে কনস্যুলার সেবার মানোন্নয়ন নিয়ে চলমান কার্যক্রমের বিষয়ও তুলে ধরা হয়। সহকারী হাইকমিশনার জানান, ডিজিটাল সেবার পরিধি বাড়ানো এবং আবেদন প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়েও কাজ চলছে।
বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনের পক্ষ থেকে সভায় উপস্থিত ছিলেন ফার্স্ট সেক্রেটারি হামিদা খাতুন এবং সেকেন্ড সেক্রেটারি রাহাত বিন কুতুব।
অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মিডল্যান্ড ইউকের প্রতিনিধি দলে ছিলেন এ টি এম মোকাররাম হাসান, ব্যারিস্টার আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ ইসমাঈল, হিফজুর রহমান, আব্দুস সালাম, মোস্তাকিম বোরহানী, তোফায়েল আহমেদ, মাওলানা আব্দুল্লাহ সোহেল, জামিল আহমেদ এবং এ এস এম মাসুম।
সভা শেষে অংশগ্রহণকারীরা প্রবাসীদের কল্যাণে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তারা মনে করেন, প্রবাসীদের সঙ্গে দূতাবাস ও হাইকমিশনের সমন্বয় জোরদার হলে সেবার মান যেমন বাড়বে, তেমনি বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন সমস্যার সমাধানও সহজ হবে।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন সেবা ঘিরে দীর্ঘদিনের চাহিদা ও বাস্তব সমস্যাগুলো নিয়ে এ ধরনের মতবিনিময় সভা ভবিষ্যতে আরও ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সহায়ক হতে পারে বলেও সভায় আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।