
ভারত থেকে সম্ভাব্য অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে দিনাজপুরের হিলি সীমান্ত এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বিজিবি সদর দপ্তরের নির্দেশনার পর বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকাল থেকে সীমান্ত এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, হিলি সীমান্তের বিভিন্ন বিওপি (বর্ডার আউট পোস্ট) ও চেকপোস্টগুলোতে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। নিয়মিত টহলের পাশাপাশি অতিরিক্ত টহল পরিচালনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সীমান্ত দিয়ে যাতায়াতকারী সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও যানবাহনে তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে।
বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে। যাতে কোনোভাবেই অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করা না যায়, সে লক্ষ্যে সদস্যরা কঠোর অবস্থানে রয়েছেন।
জয়পুরহাট ২০ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল লতিফুল বারী বলেন, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে ঘিরে সীমান্ত এলাকায় বিশেষ সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। বিজিবি সদর দপ্তরের নির্দেশনা পাওয়ার পর থেকেই পুরো সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, সীমান্তে বিজিবি সদস্যদের টহল ব্যবস্থা আরো জোরদার করা হয়েছে এবং চেকপোস্টগুলোতে বাড়তি তল্লাশি চালানো হচ্ছে। যাতে কোনোভাবেই ভারত থেকে কেউ অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর নজর রাখা হচ্ছে।
বিজিবির এই কর্মকর্তা জানান, দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে সীমান্তরক্ষী বাহিনী সবসময় তৎপর রয়েছে। যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ, চোরাচালান কিংবা সীমান্তকেন্দ্রিক অপরাধ প্রতিরোধে সদস্যরা নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারাও সীমান্ত এলাকায় বাড়তি টহল ও নজরদারির বিষয়টি লক্ষ্য করেছেন বলে জানিয়েছেন। বিশেষ করে হিলি চেকপোস্ট ও আশপাশের এলাকায় বিজিবির উপস্থিতি আগের তুলনায় বেশি দেখা যাচ্ছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্ত এলাকায় রাজনৈতিক বা অস্থিতিশীল পরিস্থিতির প্রভাব পড়লে অবৈধ অনুপ্রবেশের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই আগাম সতর্কতা হিসেবে বিজিবির এমন পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।