
চট্টগ্রামে একীভূত হওয়া পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীরা তাদের জমাকৃত অর্থ ফেরতের দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন। তারা দাবি জানিয়েছেন, আমানতের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং উত্তোলনের ওপর থাকা সীমাবদ্ধতা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।
বুধবার সকাল ১১টা থেকে Bangladesh Bank Chattogram Office-এর আঞ্চলিক কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে এই কর্মসূচি পালন করেন আমানতকারীরা। তারা ‘সম্মিলিত ইসলামি ব্যাংক আমানতকারী অ্যাসোসিয়েশন–চট্টগ্রাম বিভাগ’ ব্যানারে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেন।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া গ্রাহকরা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংকগুলোতে তাদের গচ্ছিত অর্থ আটকে আছে। প্রয়োজনের সময় টাকা তুলতে না পেরে তারা পরিবার ও ব্যবসা পরিচালনায় চরম সমস্যায় পড়েছেন। আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে অনেকেই কোরবানির প্রস্তুতি নিয়েও অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।
আন্দোলনকারীরা ‘আমার টাকা ফেরত চাই’, ‘হেয়ার কাট মানি না’, ‘আমানত নিয়ে টালবাহানা চলবে না’—এমন বিভিন্ন স্লোগান দেন। তাদের মূল দাবি ছিল, আমানতের ওপর কোনো ধরনের কাটছাঁট (haircut policy) গ্রহণযোগ্য নয় এবং দ্রুত পূর্ণ অর্থ ফেরত দিতে হবে।
প্রবাসফেরত এক বিক্ষোভকারী হেফাজ জানান, তিনি দীর্ঘ ২৫ বছর সৌদি আরবে কাজ করে সঞ্চয় করেছেন। কিন্তু এখন সেই টাকা তুলতে পারছেন না। অল্প অল্প করে কিছু টাকা দেওয়া হলেও পুরো অর্থ ফেরত না পাওয়ায় তিনি ও তার পরিবার চরম সংকটে রয়েছেন।
আন্দোলনকারীরা আরও বলেন, ব্যাংকিং কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে এবং গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে Bangladesh Bank-কে।
উল্লেখ্য, তারল্য সংকট ও অনিয়মের কারণে দেশের একাধিক ব্যাংক একীভূত করার প্রক্রিয়া চলছে। এর মধ্যে রয়েছে EXIM Bank Bangladesh, First Security Islami Bank, Social Islami Bank, Global Islami Bank এবং Union Bank Limited।
এই একীভূতকরণ প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ ও খাতুনগঞ্জ এলাকাতেও সাম্প্রতিক সময়ে আমানতকারীদের বিক্ষোভ ও ব্যাংক শাখায় তালা দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে।
সর্বশেষ পরিস্থিতিতে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সরাতে গেলে উত্তেজনা তৈরি হয় এবং একপর্যায়ে আন্দোলনকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে সামনে এগিয়ে যান। পুরো পরিস্থিতি নিয়ে প্রশাসনের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।