
দেশের অন্যতম লিচু উৎপাদনকারী অঞ্চল Dinajpur-এ চলতি মৌসুমে লিচু চাষ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা। মৌসুমের শুরুতে অনাবৃষ্টি, পরে জ্বালানি সংকট এবং সবশেষ বৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টির কারণে লিচু বাগানগুলো ক্ষতির মুখে পড়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
চাষিদের দাবি, চলতি মৌসুমে লিচু উৎপাদনে খরচ আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব। ফলে এ বছর উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তবে জেলা কৃষি বিভাগ বলছে, লিচুর ক্ষতি খুব বেশি হয়নি। তাদের মতে, যেটুকু ক্ষতি হয়েছে তা উল্লেখযোগ্য নয় এবং এখন পর্যন্ত বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির কোনো পরিসংখ্যানও প্রস্তুত করা হয়নি।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শুরুতে গাছে প্রচুর মুকুল ও গুটি আসায় ভালো ফলনের আশা করেছিলেন তারা। কিন্তু খরা ও অতিরিক্ত গরমে প্রথমে মুকুল পুড়ে যায়, পরে গুটি ঝরে পড়তে শুরু করে। এরপর কিছুদিন বৃষ্টিতে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও গত মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে শুরু হওয়া ঝড় ও শিলাবৃষ্টি নতুন করে ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
বিশেষ করে Biral, চিরিরবন্দর, কাহারোল, বোচাগঞ্জ ও খানসামা উপজেলায় লিচু ঝরে পড়া ও পচনের ঘটনা বেশি দেখা গেছে। অনেক বাগানে বোম্বাই জাতের লিচু ফেটে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বলেও জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
বিরল উপজেলার চাষি রতন রায় জানান, তার বাগানে লিচু পচে ঝরে পড়ছে। কোনোভাবেই গাছে ফল ধরে রাখা যাচ্ছে না। এতে তিনি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন বলে আশঙ্কা করছেন।
একই এলাকার ব্যবসায়ী মফিজুল ইসলাম জানান, তিনি বিভিন্ন এলাকায় লিচুর বাগান কিনেছেন। কিন্তু শিলাবৃষ্টির কারণে বোম্বাই লিচুর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ফল রক্ষায় নানা ধরনের ভিটামিন স্প্রে ব্যবহার করেও খুব বেশি লাভ হচ্ছে না।
অন্যদিকে দিনাজপুর সদর উপজেলার ঘুঘুডাঙ্গা গ্রামের চাষি জুয়েল ইসলাম জানান, তার তিন একর জমির বাগানে গত বছরের তুলনায় অর্ধেক ফলন হয়েছে। তিনি বলেন, জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় এবার পরিবহন খরচও বাড়বে, ফলে বাজারে লিচুর দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
চাষিরা আরও জানান, এলাকায় পর্যাপ্ত হিমাগার না থাকায় প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ লিচু সংরক্ষণের অভাবে নষ্ট হয়ে যায়। তারা দীর্ঘদিন ধরে লিচু সংরক্ষণের জন্য আধুনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছেন।
Department of Agricultural Extension-এর দিনাজপুর কার্যালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ বছর জেলায় প্রায় ৫ হাজার ৪৮৪ হেক্টর জমিতে লিচু চাষ হয়েছে। জেলায় মোট বাগানের সংখ্যা ৫ হাজার ৪১৮টি। এবার প্রায় ৩৭ হাজার ৫৯৩ মেট্রিক টন লিচু উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে।
কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, চলমান তাপপ্রবাহে কিছুটা ক্ষতি হলেও বাগান মালিকরা নিয়মিত পরিচর্যা করছেন। তাই কাঙ্ক্ষিত ফলনের আশা এখনো পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। একই সঙ্গে দিনাজপুরের লিচু বিদেশে রপ্তানির সম্ভাবনাও রয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, লিচু পাকার সময় অতিরিক্ত বৃষ্টি হলে ফলের গোড়ায় পোকা ধরার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই বাগানিদের নিয়মিত পরিচর্যা ও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।