
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম এবং তার স্বামী আকতার হোসেনের আয়কর সংক্রান্ত নথিপত্র জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (৭ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন।
সংশ্লিষ্ট আদালতের সূত্রে জানা যায়, দুদকের সহকারী পরিচালক খোরশেদ আলম আদালতে আবেদন করে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আয়কর নথি সংগ্রহের অনুমতি চান। আদালত আবেদনটি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় নথিপত্র জব্দের নির্দেশ দেন।
দুদকের আবেদনে বলা হয়েছে, সাবেক উপাচার্য ফারজানা ইসলামের বিরুদ্ধে সীমাহীন দুর্নীতি ও নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ নিয়ে অনুসন্ধান চলছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তার স্বামী, ছেলে এবং তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে নিয়োগ বাণিজ্য পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে।
অনুসন্ধান সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, অভিযোগ রয়েছে যে অবৈধ উপায়ে অর্জিত অর্থ দিয়ে কৃষিজমি, ফ্ল্যাট ও প্লটসহ বিভিন্ন সম্পদ কেনা হয়েছে। এছাড়া এসব সম্পদের একটি অংশ গোপন করারও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে দুদক।
দুদকের আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে ফারজানা ইসলাম ও তার স্বামী আকতার হোসেনের মূল আয়কর ফাইল, স্থায়ী অংশ এবং বিবিধ অংশসহ সংশ্লিষ্ট সব নথি জব্দ করা প্রয়োজন। কারণ এসব নথির মাধ্যমে সম্পদের উৎস, আয়-ব্যয়ের হিসাব এবং সম্ভাব্য অসঙ্গতি যাচাই করা সম্ভব হবে।
এর আগে একই আদালত গত ৮ ফেব্রুয়ারি ফারজানা ইসলাম ও তার স্বামীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন। সেই আদেশের ধারাবাহিকতায় এবার তাদের আর্থিক নথি জব্দের নির্দেশ দেওয়া হলো।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই উপাচার্যের বিরুদ্ধে অতীতেও বিভিন্ন সময়ে নিয়োগ ও প্রশাসনিক অনিয়ম নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে তিনি বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বিস্তারিত বক্তব্য প্রকাশ করা হয়নি।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, দুর্নীতির অভিযোগে অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে আয়কর নথি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হয়। এর মাধ্যমে অভিযুক্ত ব্যক্তির ঘোষিত আয় এবং বাস্তব সম্পদের মধ্যে কোনো অসামঞ্জস্য রয়েছে কিনা তা যাচাই করা সহজ হয়।
দুদকের চলমান অনুসন্ধানে আরও বিভিন্ন আর্থিক লেনদেন, সম্পদ অর্জন এবং ব্যাংক হিসাবের তথ্য খতিয়ে দেখা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে জবাবদিহিতা নিশ্চিতের দাবিও জোরালো হচ্ছে।
সব মিলিয়ে সাবেক উপাচার্য ফারজানা ইসলাম ও তার স্বামীর আয়কর নথি জব্দের আদালতের এই আদেশকে চলমান দুর্নীতি অনুসন্ধানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।