
ভৈরব-ঢাকা রুটে চলাচলকারী জনপ্রিয় ট্রেন এগারোসিন্দুর এক্সপ্রেস-এর শোভন কোচের ১৬০টি আসন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। হঠাৎ নেওয়া এই সিদ্ধান্তে সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে ব্যাপক ভোগান্তি দেখা দিয়েছে।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানায়, ট্রেনের একটি শোভন কোচ (ছ বগি) যাত্রী চলাচলের জন্য অনুপযুক্ত হয়ে পড়ায় সেটি মেরামতের জন্য আলাদা করা হয়েছে। ওই বগিটি বর্তমানে চট্টগ্রামের পাহাড়তলী রেলওয়ে ডকে পাঠানো হয়েছে মেরামতের জন্য।
স্টেশন মাস্টার মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, মেরামত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ভৈরব-ঢাকা ও ঢাকা-ভৈরব রুটে চারটি ট্রিপে মোট ১৬০টি শোভন আসনের টিকিট বিক্রি বন্ধ থাকবে।
এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভৈরব থেকে ঢাকাগামী প্রভাতী ট্রেনের ৪০টি আসন, গোধূলী ট্রেনের ৪০টি আসন এবং একইভাবে ঢাকা থেকে ভৈরবগামী দুটি ট্রেনের মোট ৮০টি আসন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
ভৈরব স্টেশন সূত্রে জানা যায়, এগারোসিন্দুর ট্রেনটি কিশোরগঞ্জ থেকে ভৈরব হয়ে দিনে চারবার চলাচল করে—সকাল ও দুপুরে ভৈরব হয়ে ঢাকায় যায় এবং সকাল ও সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জে ফিরে যায়।
বর্তমানে ট্রেনটি ১১টি কোচ নিয়ে চলার কথা থাকলেও একটি কোচ বিচ্ছিন্ন থাকায় ১০টি কোচ দিয়েই চলাচল করছে। এতে যাত্রী চাপ আরও বেড়ে গেছে।
ভৈরব স্টেশনে প্রতিদিন প্রায় আড়াই হাজার থেকে তিন হাজার যাত্রী যাতায়াত করেন। কিন্তু আসন সংখ্যা কমে যাওয়ায় অনেক যাত্রীকে দাঁড়িয়ে ভ্রমণ করতে হচ্ছে, যা বিশেষ করে দীর্ঘ যাত্রায় কষ্টকর হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও যাত্রীদের অভিযোগ, একটি কোচ সরিয়ে নেওয়ায় আসন সংকট তৈরি হয়েছে, ফলে স্ট্যান্ডিং টিকিটের ওপর নির্ভরতা বেড়ে গেছে।
ভৈরব নিউ মার্কেট পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. তানভীর আহমেদ বলেন, নির্ধারিত শোভন কোচটি দীর্ঘদিন ব্যবহারযোগ্য ছিল, কিন্তু হঠাৎ সেটি মেরামতের নামে সরিয়ে নেওয়ায় ৪০টি আসন বন্ধ হয়ে গেছে, যা যাত্রীদের জন্য বড় ক্ষতি।
অন্যদিকে যাত্রী নাসরিন সুলতানা জানান, ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে যাতায়াত করা ঝুঁকিপূর্ণ ও কষ্টকর। বিশেষ করে নারী ও বয়স্ক যাত্রীদের জন্য এটি আরও দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আরেক যাত্রী ব্যবসায়ী রাজীব আহমেদ বলেন, এই রুটে নিয়মিত যাত্রীদের জন্য পর্যাপ্ত আসন থাকা প্রয়োজন। কোচ কমে যাওয়ায় প্রতিদিন ভোগান্তি বাড়ছে।
তবে ভৈরব স্টেশন মাস্টার মোহাম্মদ ইউসূফ জানিয়েছেন, যাত্রী সেবার মান বজায় রাখার জন্যই কোচটি মেরামতের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে সেটি পুনরায় যুক্ত করার চেষ্টা চলছে।
রেল কর্তৃপক্ষ আশা করছে, কোচ মেরামত সম্পন্ন হলে পুনরায় আগের মতো ১১টি কোচ দিয়ে ট্রেনটি পরিচালনা করা সম্ভব হবে এবং যাত্রীদের দুর্ভোগ কমে আসবে।
সব মিলিয়ে, রেলওয়ের এই সাময়িক সিদ্ধান্তে ভৈরব-ঢাকা রুটে যাত্রী চাপ ও ভোগান্তি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যা দ্রুত সমাধানের দাবি তুলেছে সাধারণ যাত্রীরা।