
বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সরকার নতুন নীতিগত সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি বলেন, সৌরবিদ্যুৎ খাতে যথাযথ নীতিমালা প্রণয়ন করা গেলে দেশে একটি বড় ধরনের জ্বালানি বিপ্লব ঘটানো সম্ভব।
ঢাকায় বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত “বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও ইনফ্রাস্ট্রাকচার এক্সপো”-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে তিনি দেশের জ্বালানি খাতের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ নবায়নযোগ্য জ্বালানির ক্ষেত্রে এখনো অনেক পিছিয়ে রয়েছে। তুলনামূলকভাবে ভারত ও পাকিস্তান সৌর ও বায়ু বিদ্যুৎ ব্যবহার বাড়িয়ে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ দীর্ঘদিন এই খাতে পিছিয়ে ছিল।
তিনি জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিশেষ করে সৌর ও বায়ু বিদ্যুৎকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, কমিটি ইতোমধ্যে বৈঠক করেছে এবং একটি প্রাথমিক নীতিমালা কাঠামো প্রস্তুত করা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, দ্রুত সময়ের মধ্যে এটি চূড়ান্ত করা হবে। সরকারের লক্ষ্য হলো একটি কার্যকর নীতিগত কাঠামো তৈরি করা, যা উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ ও সুবিধাজনক হবে।
তিনি উদাহরণ হিসেবে তৈরি পোশাক শিল্পের কথা উল্লেখ করে বলেন, অতীতে নীতিগত সুবিধা যেমন বন্ডেড ওয়্যারহাউস ও ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি ব্যবস্থার মাধ্যমে গার্মেন্টস খাতে বড় পরিবর্তন এসেছে। একইভাবে সৌরবিদ্যুৎ খাতেও সহায়ক নীতি দেওয়া গেলে বড় অগ্রগতি সম্ভব।
জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত ইনভার্টার, ফ্রেম এবং ফটোভোল্টাইক প্যানেলের মতো যন্ত্রপাতি আমদানির জন্য সহজ কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে। এতে উদ্যোক্তারা সহজেই প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পারবেন।
তিনি বিশেষভাবে ব্যাটারি স্টোরেজ ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তার মতে, শুধু দিনের বেলায় বিদ্যুৎ উৎপাদন যথেষ্ট নয়, বরং সন্ধ্যার পিক আওয়ারে বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে ব্যাটারি স্টোরেজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সরকার আগামী পাঁচ বছরে ১০ হাজার মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে বলেও জানান তিনি। এই লক্ষ্য অর্জনে বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শহরের ভবনের ছাদ ব্যবহার করে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বেসরকারি উদ্যোক্তারা ভবনের ছাদে সোলার প্যানেল স্থাপন করে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারবেন এবং নেট মিটারিং ব্যবস্থার মাধ্যমে বিল সমন্বয় করা হবে।
এছাড়া তিনি জানান, উদ্যোক্তাদের জন্য কর ও নীতিগত চাপ কমিয়ে একটি সাশ্রয়ী বিনিয়োগ পরিবেশ তৈরি করা হবে, যাতে এই খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউএবল এনার্জি ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (SREDA)-এর চেয়ারম্যান মুজাফফর আহমেদ, এবং বিভিন্ন শিল্প ও জ্বালানি খাতের নেতৃবৃন্দ।
সব মিলিয়ে, সরকারের এই উদ্যোগকে বাংলাদেশে সবুজ জ্বালানি ও সৌরবিদ্যুৎ খাত সম্প্রসারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।