
সরকারি প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নতুন সহায়তা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এই কর্মসূচির আওতায় শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে জুতা, ব্যাগ এবং ড্রেসসহ প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ পাবে বলে জানানো হয়েছে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, যার লক্ষ্য হলো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সমন্বিত সহায়তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
রাজধানীতে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে দেশের শীর্ষস্থানীয় লেদারগুডস ও ফুটওয়্যার প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এই তথ্য জানান। সভায় জানানো হয়, ইতোমধ্যে কর্মসূচির প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্রথম ধাপে দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানসম্মত স্কুল জুতা বিতরণ করা হবে। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে ব্যাগ ও অন্যান্য শিক্ষা সামগ্রী অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য শুধু জুতা বা ব্যাগ বিতরণ নয়, বরং শিশুদের জন্য একটি মর্যাদাপূর্ণ ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে কোনো ধরনের বৈষম্য তৈরি না হয়, সে বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এ লক্ষ্যে জুতা ও অন্যান্য সামগ্রীর মান, ডিজাইন এবং উৎপাদন প্রক্রিয়া নির্ধারণে একটি টেকনিক্যাল কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই কমিটিতে মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, প্রযুক্তিগত বিশেষজ্ঞ, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, লেদার ইন্সটিটিউটের বিশেষজ্ঞ এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা থাকবেন।
এছাড়া কর্মসূচির মান নিয়ন্ত্রণ ও সার্টিফিকেশন আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশের প্রতিটি উপজেলায় দুটি করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই সুবিধা দেওয়া হবে। প্রাথমিকভাবে প্রায় এক লাখ শিক্ষার্থী এই পাইলট প্রকল্পের আওতায় আসবে।
সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। যেহেতু দেশের বিভিন্ন বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে এ ধরনের পণ্য উৎপাদনে যুক্ত, তাই এই প্রকল্প বাস্তবায়নে বড় ধরনের কোনো জটিলতা হবে না বলে আশা করা হচ্ছে।
সভায় দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান যেমন বাটা, এপেক্স, প্রাণ-আরএফএল, বসুন্ধরা গ্রুপসহ বিভিন্ন কোম্পানির প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তারা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (CSR) কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের স্কুলমুখী করতে সহায়ক হবে এবং দরিদ্র পরিবারের ওপর আর্থিক চাপ কমাবে।
সব মিলিয়ে প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য এই বিনামূল্যে জুতা, ব্যাগ ও ড্রেস বিতরণ কর্মসূচি দেশের শিক্ষা খাতে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।