
দেশে হাম রোগের প্রাদুর্ভাব এবং শিশু মৃত্যুর ঘটনায় নীরবতা নিয়ে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ Muhammad Yunus-এর সমালোচনা করেছেন সিনিয়র সাংবাদিক Syed Ishtiaq Reza। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ বিষয়ে নিজের প্রতিক্রিয়া জানান।
বৃহস্পতিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া ওই পোস্টে ইশতিয়াক রেজা উল্লেখ করেন, মার্কিন টেলিভিশন নেটওয়ার্ক সিএনএনের প্রতিষ্ঠাতা Ted Turner-এর মৃত্যুতে ড. ইউনূস দীর্ঘ শোকবার্তা প্রকাশ করেছেন। তবে একই সময়ে দেশে হাম রোগে শত শত শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটলেও এ বিষয়ে তার কোনো প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
পোস্টে তিনি লেখেন, ‘মার্কিন টিভি চ্যানেল সিএনএনের প্রতিষ্ঠাতা টেড টার্নারের মৃত্যুতে ফেসবুকে বিশাল শোকবার্তা লিখেছেন ড. ইউনূস। নিজের দেশে শত শত শিশু মারা গেল হাম রোগে, কিন্তু তিনি চুপটি করে আছেন!’
ইশতিয়াক রেজার এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই তার বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে দেশের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি এবং জনস্বাস্থ্য সংকট নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, ব্যক্তিগত বা আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে শোক বা প্রতিক্রিয়া জানানো একান্তই ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের বিষয়।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশে হাম রোগের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ এবং মৃত্যুর খবর জনমনে আতঙ্ক তৈরি করেছে। চিকিৎসকরা নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ এবং সময়মতো টিকা না নিলে এটি মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে।
এদিকে ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে ওঠা এই সমালোচনা নতুন নয়। এর আগেও বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে তার অবস্থান বা মন্তব্য নিয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা হয়েছে। তবে এবারের বিতর্কটি মূলত মানবিক ও জনস্বাস্থ্য সংকটকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার পাশাপাশি বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলেও মতপার্থক্য দেখা গেছে। কেউ মনে করছেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ সংকটময় মুহূর্তে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সরব হওয়া প্রয়োজন। অন্যদিকে কেউ বলছেন, কোনো ব্যক্তি কোন বিষয়ে বক্তব্য দেবেন, তা তার নিজস্ব বিবেচনার ওপর নির্ভর করে।
হাম পরিস্থিতি এবং শিশু মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে জনমনে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলায় স্বাস্থ্য সচেতনতা ও সরকারি উদ্যোগ আরও জোরদার করার দাবি উঠছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের ভূমিকা ও দায়িত্ব নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।