
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় সমাবেশ হজকে ঘিরে স্বাস্থ্য সুরক্ষা আরও জোরদার করেছে সৌদি আরব। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ঘোষণা দিয়েছে, হজ পালনে অংশ নিতে আগ্রহী প্রত্যেক হাজিকে হজ মৌসুম শুরুর অন্তত ১০ দিন আগে প্রস্তাবিত টিকা গ্রহণ করতে হবে।
এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূল লক্ষ্য হলো লাখো মানুষের সমাগমে সংক্রামক রোগের বিস্তার রোধ করা। প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে মুসল্লিরা হজ পালনের জন্য সৌদি আরবে আসেন। বিপুল জনসমাগমের কারণে রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি স্বাভাবিকভাবেই বেশি থাকে। তাই আগাম টিকাদানকে প্রতিরোধের প্রথম ধাপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মতে, নির্ধারিত সময়ের অন্তত ১০ দিন আগে টিকা নেওয়ার ফলে শরীরে প্রয়োজনীয় রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে ওঠে। এতে ভিড়ের মধ্যে সহজে সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি কমে যায় এবং হাজিরা নিরাপদে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা পালন করতে পারেন।
প্রস্তাবিত টিকাগুলোর মধ্যে রয়েছে মেনিনগোকোকাল রোগের টিকা, COVID-19 প্রতিরোধী টিকা এবং মৌসুমি ইনফ্লুয়েঞ্জা টিকা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে যখন লক্ষাধিক মানুষ একই স্থানে অবস্থান করেন।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হজের সময় সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে এই টিকাগুলো অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখে। অতীতে বিভিন্ন সময়ে বড় সমাবেশে সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার নজির রয়েছে। তাই এবার আগেভাগেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
হাজিদের সুবিধার্থে টিকা গ্রহণ প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করতে ডিজিটাল সেবা চালু করেছে কর্তৃপক্ষ। ‘সেড্ডি’ নামের একটি মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন ও স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করা যাবে। এতে সময় বাঁচবে এবং সেবা গ্রহণের প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজন হলে একাধিক টিকা একসঙ্গে বা আলাদাভাবে নেওয়া যেতে পারে। সব টিকাই আন্তর্জাতিকভাবে অনুমোদিত এবং নিরাপত্তা মানদণ্ড পূরণ করে।
এছাড়া গর্ভবতী নারীসহ উপযুক্ত সকল ব্যক্তির জন্য এই টিকাগুলো নিরাপদ বলে জানানো হয়েছে। তবে যাদের বিশেষ শারীরিক সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু টিকাদানই নয়, হজের সময় ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত হাত ধোয়া, মাস্ক ব্যবহার এবং ভিড়ের মধ্যে সতর্ক থাকা—এসব বিষয়ও সমানভাবে গুরুত্ব পায়।
সব মিলিয়ে, হজকে নিরাপদ রাখতে সৌদি আরবের এই পদক্ষেপকে সময়োপযোগী এবং প্রয়োজনীয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। টিকা গ্রহণের মাধ্যমে হাজিরা যেমন নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে পারবেন, তেমনি অন্যদেরও সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে ভূমিকা রাখবেন।