
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় চাঁদার দাবিতে এক ব্যবসায়ীকে অপহরণ ও হত্যাচেষ্টার ঘটনায় যুবদল নেতাসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (৬ মে) ভোরে উপজেলার ধানগড়া এলাকা থেকে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন ধানগড়া এলাকার বাসিন্দা ও পৌর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক তৌকির আহম্মেদ স্বপন (৩৯) এবং মো. রাকিব (২৪)।
মামলার সূত্রে জানা যায়, ধানগড়া গ্রামের বাসিন্দা মাহবুবুল আলম বগুড়ার শেরপুর এলাকায় বালুর ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। অভিযোগ অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে যুবদল নেতা স্বপন তার কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন।
চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে বিভিন্ন সময় হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়। পরবর্তীতে ২ মে ভোরে বাড়ি ফেরার পথে ধানগড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় তাকে আটক করা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে তৌকির আহম্মেদ স্বপন ও তার সহযোগীরা ব্যবসায়ী মাহবুবুল আলমকে মারধর করে তার কাছে থাকা এক লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয়। এরপর তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে প্রথমে ঝাপড়া এলাকার একটি বালুর পয়েন্টে এবং পরে ব্রহ্মগাছা বাজার এলাকার একটি ভবনে আটক রাখা হয়।
এ সময় তার পরিবারের কাছে মোবাইল ফোনে আরও দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরবর্তীতে বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে আহত অবস্থায় মাহবুবুল আলমকে উদ্ধার করে। তাকে প্রথমে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে এবং পরে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আহসানুজ্জামান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার ভোরে অভিযান চালিয়ে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তার তৌকির আহম্মেদ স্বপনের বিরুদ্ধে আগেও একাধিক মামলা রয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
ঘটনার পর এলাকায় চরম উত্তেজনা ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, চাঁদাবাজি ও অপহরণের ঘটনায় তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, এ ধরনের অপরাধ দমনে অভিযান আরও জোরদার করা হবে। বিশেষ করে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সব মিলিয়ে রায়গঞ্জের এই ঘটনা আবারও চাঁদাবাজি ও অপহরণ চক্রের সক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে, যা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।