
চট্টগ্রাম নগরীতে অ্যাম্বুলেন্সকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে মাদক পাচারের একটি বড় চক্রের হদিস পেয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে নগরীর ব্রিকফিল্ড রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার পিস ইয়াবাসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। জব্দ করা এসব ইয়াবার বাজারমূল্য প্রায় ৪ কোটি টাকা বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পুলিশ জানায়, কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী একটি অ্যাম্বুলেন্সকে ঘিরে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। নির্দিষ্ট তথ্য ছিল যে, “ঢাকা মেট্রো ছ ৭১-১২৬৫” নম্বরের ওই অ্যাম্বুলেন্সটি রোগী পরিবহনের আড়ালে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা বহন করছে।
দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে কোতোয়ালী থানার একটি বিশেষ দল ব্রিকফিল্ড রোডের পাথরঘাটা পুলিশ ফাঁড়ির পাশের এলাকায় অবস্থান নেয়। অ্যাম্বুলেন্সটি পৌঁছালে সেটিকে থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। এরপরই বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য।
তল্লাশিতে অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরের স্ট্রেচার ও গোপন কুঠুরি থেকে একে একে উদ্ধার করা হয় ১ লাখ ৫ হাজার ইয়াবা ট্যাবলেট। সাধারণত রোগী পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত এই যানটিকে মাদক পাচারের নিরাপদ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছিল চক্রটি।
গ্রেপ্তার দুজন হলেন শহিদুল ইসলাম খান সাগর (২৭) এবং মো. আফসার (৩৩)। পুলিশ জানায়, সাগর অ্যাম্বুলেন্স চালক হিসেবে কাজ করলেও দীর্ঘদিন ধরে মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিল। অন্যদিকে আফসার ছিল পুরো চালানের তদারক ও সমন্বয়ের দায়িত্বে।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে তারা অ্যাম্বুলেন্সকে ব্যবহার করত। জরুরি সেবার যান হওয়ায় সাধারণত তল্লাশি কম হয়—এই সুযোগই কাজে লাগাতো চক্রটি।
কোতোয়ালী থানার ওসি আফতাব উদ্দিন জানান, এই চালানের পেছনে বড় কোনো সিন্ডিকেট জড়িত থাকতে পারে। তাই শুধু দুজনকে গ্রেপ্তার করাই শেষ নয়, বরং পুরো নেটওয়ার্ক শনাক্ত করাই এখন মূল লক্ষ্য।
তিনি আরও জানান, কক্সবাজারের কোন স্থান থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করা হয়েছে এবং ঢাকায় কার কাছে পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পুরো রুট ও অর্থায়নকারী চক্র শনাক্তে কাজ চলছে।
এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ প্রশাসন বলছে, জরুরি সেবার যানবাহনকে এভাবে অপব্যবহার করা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। মানবিক সেবার নামে মাদক পাচার সমাজের জন্য ভয়াবহ হুমকি তৈরি করছে।
এ ধরনের ঘটনা রোধে এখন থেকে সন্দেহভাজন অ্যাম্বুলেন্সগুলো কঠোর তল্লাশির আওতায় আনা হবে বলেও জানানো হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মাদকমুক্ত নগরী গড়তে “জিরো টলারেন্স” নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।
সব মিলিয়ে, এই ঘটনায় চট্টগ্রামে আবারও বড় ধরনের মাদক চক্রের সক্রিয়তা সামনে এসেছে, যা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে।