
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের মানবিক সহায়তা কার্যক্রম ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি। সংস্থাটির মহাসচিব মেইসাম আফশার জানিয়েছেন, এই হামলায় মোট ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১০ ট্রিলিয়ন তোমান, যা আন্তর্জাতিক মুদ্রায় প্রায় ১২৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমান।
আফশারের মতে, এই ক্ষতি শুধুমাত্র আর্থিক নয়, বরং ইরানের জরুরি চিকিৎসা, উদ্ধার ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমে বড় ধরনের ব্যাঘাত সৃষ্টি করেছে।
তিনি জানান, হামলায় রেড ক্রিসেন্টের অন্তত তিনটি হেলিকপ্টার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে একটি সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে। এই একটি হেলিকপ্টার ধ্বংসেই প্রায় ১,৫০০ বিলিয়ন তোমান বা প্রায় ১৯.৫ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলায় সংস্থাটির ৪৯টি জরুরি সেবার যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি ৫৬টিরও বেশি স্থাপনায় আঘাত লাগে, যেগুলো জরুরি উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে ব্যবহৃত হতো।
এই অবকাঠামোগুলো ধ্বংস হওয়ায় ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে জরুরি সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা কমে গেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। বিশেষ করে দুর্ঘটনা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং চিকিৎসা সহায়তা পৌঁছাতে বিলম্ব হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, তারা বর্তমানে পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি পুনর্গঠন ও বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি হওয়ায় পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলোর ওপর এ ধরনের হামলা যুদ্ধ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে গুরুতর উদ্বেগের বিষয়। কারণ রেড ক্রিসেন্ট ও রেড ক্রস সংস্থাগুলো সাধারণত নিরপেক্ষ মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।
এই ঘটনার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা উত্তেজনা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, জরুরি সেবা ও মানবিক সহায়তা কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলে সাধারণ জনগণ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে এ ধরনের হামলা শুধু সামরিক নয়, মানবিক সংকটকেও গভীর করে তোলে।
ইরান রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, তারা আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সহায়তা কামনা করছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্গঠনে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে চায়।
সব মিলিয়ে, এই হামলার ফলে ইরানের মানবিক সহায়তা ব্যবস্থা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে, যা ভবিষ্যতে আঞ্চলিক মানবিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।