
দেশের অন্যতম পরিকল্পিত ও আধুনিক আবাসিক এলাকা হিসেবে পরিচিত বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা নিয়ে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে এলাকার বাসিন্দারা। তাদের দাবি, বর্তমান উন্নত, নিরাপদ ও আধুনিক সেবা ব্যবস্থা বজায় রাখার স্বার্থেই তারা সিটি করপোরেশনের আওতায় যেতে চান না।
বসুন্ধরা ওয়েলফেয়ার সোসাইটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই আবাসিক এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সব ধরনের নাগরিক সেবা পরিচালিত হচ্ছে। রাস্তাঘাট নির্মাণ, ফুটপাত রক্ষণাবেক্ষণ, ড্রেন পরিষ্কার, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সড়ক বাতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, পানি সরবরাহসহ সব মৌলিক সেবা নিজস্ব অর্থায়নে পরিচালিত হচ্ছে।
বাসিন্দাদের মতে, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা দেশের অন্যান্য এলাকার তুলনায় অনেক বেশি নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল। এখানে ২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তাকর্মী নিয়োজিত থাকে এবং সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি করা হয়। ফলে মাদক, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম প্রায় শূন্যের কোঠায় রয়েছে বলে দাবি তাদের।
এলাকার বাসিন্দারা মনে করেন, যদি এই এলাকা সিটি করপোরেশনের অধীনে চলে যায়, তাহলে বর্তমান শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। তাদের আশঙ্কা, তখন বহিরাগত হকার, অপরাধী ও অপ্রয়োজনীয় জনসমাগম বৃদ্ধি পেতে পারে, যা এলাকার বর্তমান পরিবেশকে ব্যাহত করবে।
বসুন্ধরা ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সভাপতি ও মহাসচিবের স্বাক্ষরিত একটি চিঠি ইতিমধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের কাছে পাঠানো হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, এই এলাকার বাসিন্দারা সম্মিলিতভাবে সিটি করপোরেশনের আওতায় না যাওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বসুন্ধরা এলাকার উন্নয়ন কার্যক্রম ২০৩৪ সাল পর্যন্ত নিজস্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী পরিচালনার অনুমতি রয়েছে। তাই সিটি করপোরেশনের নতুন হস্তক্ষেপ বর্তমান উন্নয়ন পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ডিএনসিসির পক্ষ থেকে হোল্ডিং ট্যাক্স ও সার্ভিস চার্জ আদায়ের নোটিশ দেওয়া হয়েছে, যা তাদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে। তারা মনে করেন, যেহেতু এই এলাকার সেবা নিজস্ব অর্থায়নে পরিচালিত হয়, তাই সিটি করপোরেশনের অতিরিক্ত কর আরোপ যৌক্তিক নয়।
বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় বর্তমানে রয়েছে আধুনিক হাসপাতাল, আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয়, গলফ ক্লাব, স্পোর্টস সিটি, শপিং মল ও কমিউনিটি পার্কসহ নানা সুবিধা। এসব কারণে এটি দেশের অন্যতম আধুনিক ও পরিকল্পিত আবাসিক এলাকা হিসেবে পরিচিত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গেটেড কমিউনিটি ব্যবস্থাপনা অনেক সময় উন্নত সেবা নিশ্চিত করতে সক্ষম হলেও, সরকারি নগর ব্যবস্থাপনার বাইরে থাকলে দীর্ঘমেয়াদে নীতি ও কর কাঠামোর জটিলতা তৈরি হতে পারে।
তবে বসুন্ধরার বাসিন্দারা মনে করছেন, বর্তমান ব্যবস্থাই তাদের জন্য সবচেয়ে কার্যকর। তারা চান, বিদ্যমান ওয়েলফেয়ার সোসাইটির মাধ্যমে বর্তমান সেবার মান বজায় থাকুক এবং কোনো পরিবর্তন না আনা হোক।
সব মিলিয়ে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার এই অবস্থান ঢাকা নগর ব্যবস্থাপনায় নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে, যা ভবিষ্যতে নগর পরিকল্পনা ও সেবাব্যবস্থার নীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।