
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক করতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। যাত্রীচাপ মোকাবিলা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণে এবার দেশের বিভিন্ন রুটে ১০ জোড়া স্পেশাল ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ এপ্রিল অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এই বিশেষ ট্রেন পরিচালনার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়। ঈদযাত্রায় যাত্রীদের চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রুটে অতিরিক্ত ট্রেন চালানো হবে, যাতে মানুষ সহজে ও নিরাপদে নিজ গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন।
এই বিশেষ ট্রেনগুলো ঢাকা, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ, জয়দেবপুর, পার্বতীপুরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রুটে চলাচল করবে।
চট্টগ্রাম-চাঁদপুর রুটে দুটি ঈদ স্পেশাল ট্রেন চলবে। এর মধ্যে চাঁদপুর ঈদ স্পেশাল-১ চট্টগ্রাম থেকে বিকেল সাড়ে ৩টায় ছেড়ে রাত ৮টা ২০ মিনিটে চাঁদপুর পৌঁছাবে। অন্যদিকে চাঁদপুর ঈদ স্পেশাল-২ চাঁদপুর থেকে বিকেল ৪টায় ছেড়ে পরদিন সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে চট্টগ্রামে পৌঁছাবে।
ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ রুটে তিস্তা স্পেশাল ট্রেন চলবে। তিস্তা ঈদ স্পেশাল-৩ ঢাকা থেকে সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে ছেড়ে বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে দেওয়ানগঞ্জ পৌঁছাবে। আর তিস্তা ঈদ স্পেশাল-৪ দেওয়ানগঞ্জ থেকে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে ছেড়ে রাত ১১টা ২০ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছাবে।
ভৈরববাজার-কিশোরগঞ্জ এবং ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ রুটে চলবে শোলাকিয়া ঈদ স্পেশাল ট্রেন। এই ট্রেনগুলো মূলত ঈদের সময় শোলাকিয়া ঈদগাহ এলাকায় যাতায়াত সহজ করতে চালু করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে সকালে ও দুপুরে এসব ট্রেন চলাচল করবে।
অন্যদিকে জয়দেবপুর-পার্বতীপুর রুটে পার্বতীপুর ঈদ স্পেশাল ট্রেন পরিচালনা করা হবে। এই রুটের ট্রেনগুলো ঈদের আগে ও পরে নির্দিষ্ট কয়েকদিন চলবে, যাতে উত্তরাঞ্চলের যাত্রীরা সহজে বাড়ি ফিরতে পারেন।
রেলওয়ে জানিয়েছে, চাঁদপুর ও তিস্তা ঈদ স্পেশাল ট্রেনগুলো আগামী ২৫ মে থেকে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত চলবে। পাশাপাশি ঈদের পর দ্বিতীয় দিন থেকে আরও তিন দিন এসব ট্রেন চলাচল অব্যাহত থাকবে।
পার্বতীপুর ও শোলাকিয়া স্পেশাল ট্রেনগুলো ঈদের আগে ২৪ মে থেকে ২৬ মে পর্যন্ত চলবে এবং ঈদের পরেও নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত পরিষেবা দেবে। তবে শোলাকিয়া স্পেশাল ট্রেন শুধুমাত্র ঈদের দিন বিশেষভাবে পরিচালিত হবে।
বাংলাদেশ রেলওয়ে আশা করছে, এই অতিরিক্ত ট্রেন সেবা ঈদযাত্রায় চাপ কমাবে এবং যাত্রীদের ভোগান্তি অনেকাংশে হ্রাস করবে। বিশেষ করে সড়কপথের যানজট এড়িয়ে নিরাপদ ও আরামদায়ক ভ্রমণের সুযোগ তৈরি হবে।
ঈদ মৌসুমে দেশের ট্রেন যাত্রা সবসময়ই সবচেয়ে চাপপূর্ণ সময়গুলোর একটি। তাই রেলওয়ের এই উদ্যোগকে যাত্রীবান্ধব ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
সব মিলিয়ে, ঈদুল আজহায় বাড়তি ট্রেন চালুর মাধ্যমে যাত্রীদের যাতায়াত আরও সহজ, নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল করার চেষ্টা করছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।