প্রিন্ট এর তারিখঃ May 10, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ May 6, 2026 ইং
চন্দনাইশে ৭ খালের পুনঃখনন, ব্যয় প্রায় আড়াই কোটি টাকা

চট্টগ্রামের চন্দনাইশে ৭টি খালের পুনঃখনন কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। এ উদ্যোগে স্থানীয় কৃষকদের মাঝে চাষাবাদের আগ্রহ বাড়ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। খালগুলো সচল হলে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি পাবে এবং কৃষি উৎপাদন বাড়ার মাধ্যমে কৃষকদের আয়ও বাড়বে—এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি)-এর তথ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে একাধিক খালের পুনঃখনন কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং কিছু কাজ চলমান রয়েছে। এর মধ্যে নিশিকান্ত (যতখাল) খালের প্রথমাংশে ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩ কিলোমিটার এবং শহীদ জিয়া (বরুমতি খাল) এলাকায় ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করা হয়েছে। পাশাপাশি নিশিকান্ত খালের দ্বিতীয়াংশে ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪ কিলোমিটার, বরমা এলাকায় বরুমতি খালে ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৫ কিলোমিটার পুনঃখননের কাজ চলছে।
এ ছাড়া কাঞ্চনাবাদ এলাকায় গুইল্যাছড়ি খালে ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে ১ কিলোমিটার এবং হাশিমপুরে মরাছড়া খালে ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে ২ কিলোমিটার খনন কার্যক্রম এগিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে বরকল ব্রিজ এলাকায় মহেষমারা খাল ও কানাইমাদারী তরমুজখানি খালের পুনঃখনন কাজ শিগগিরই শুরু হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
বিএডিসির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোশারফ হোসেন জানান, এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে এলাকার পানি প্রবাহ স্বাভাবিক হবে এবং কৃষিকাজে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। উপ-সহকারী প্রকৌশলী আজমানুর রহমান বলেন, শুষ্ক মৌসুমে খালে লবণাক্ততার সমস্যা দেখা দেয়, যা চাষাবাদে বাধা সৃষ্টি করে। এ সমস্যা সমাধানে চাঁনখালী খালে রাবার ড্যাম ও বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, লবণাক্ততা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে গত কয়েক বছরে বোরো ও আমন ধানের উৎপাদন কমেছে। উৎপাদন খরচ বাড়লেও ধানের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় অনেক কৃষক চাষাবাদ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। ফলে খাদ্য নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এ পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার চন্দনাইশে ৭টি খালের পুনঃখনন প্রকল্প গ্রহণ করেছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হচ্ছে প্রায় আড়াই কোটি টাকা। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই উদ্যোগ কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ দ্যা ডেইলি কসমিক পোষ্ট । বাংলা